পারফরম্যান্স দিয়েই ফিরবেন সাকিব প্রত্যাশা রেডফোর্ডের

image

আইসিসির আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে সাকিব আল হাসানের। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে আর কোন বাধা নেই তার। সাকিবের ফেরাই বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির। বিসিবি হাইপারফরম্যান্স দলের প্রধান কোচ টবি রেডফোর্ড মনে করেন, সাকিবের ফেরা বাংলাদেশের জন্য বড় একটি পাওয়া। পারফরম্যান্স দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে এই অলরাউন্ডার, এমনটাই বিশ্বাস রেডফোর্ডের। এ প্রসঙ্গে এইচপি কোচ বলেন, ‘আমি সাকিবের সম্পর্কে সব জানি। সে এক নম্বর অলরাউন্ডার এবং ব্যাটে-বলে সে বিশ্বমানের। অবশ্যই বাংলাদেশ ক্রিকেট তাকে এক বছর মিস করেছে। যাই হোক, ইতিবাচক দিক হলো সে ফিরে এসেছে এবং দলের হয়ে দারুণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাই আমি মনে করি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পারফরম্যান্স দিয়ে তার ফিরে আসা দলের জন্য দারুণ ব্যাপার।’

করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই রেডফোর্ডকে এইচপি দলের কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেছিল বাংলাদেশ। যদিও লকডাউনের কারণে তার বাংলাদেশে আসতে দেরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো বিসিবির ভার্চুয়াল কনফারেন্সে রেডফোর্ড জানিয়েছেন এইচপি সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা দেখে তিনি দারুণ আনন্দিত। রেডফোর্ডের লক্ষ্য যেকোন পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রিকেটারদের মানিয়ে নেয়ার জন্য তাদের তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই কাজ শুরু করেছেন এই ইংলিশ কোচ।

রেডফোর্ড বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তাদের মনের নমনীয়তা এবং তাদের খেলাটি বোঝা উচিত। তারা কিভাবে খেলছে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কী করবে। আমরা যদি ভালো শিক্ষা দিতে পারি তাহলে তারা নিজেদের নিয়ে চিন্তা করতে পারবে।’

এদিকে দেরিতে কাজে যোগ দেয়া টবি এসেই বলে দিলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি করতে চান তিনি। এইচপি দলকে মনে করা হয় জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটারদের তৈরি করার উপযুক্ত ক্ষেত্র। সেখানে টেস্ট ক্রিকেটার তৈরি দিকে বেশি মনোযোগ থাকবে তার। টেস্টে বাংলাদেশের দুর্বলতা পুরনো। মার্চে জিম্বাবুয়েকে হারানোর আগে টানা ছয় টেস্ট হেরেছে বাংলাদেশ। নবীন আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হেরেছে বাংলাদেশ। টেস্ট যাংকিংয়ে দশ দলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নয়ে। এই দুর্দশা নজরে পড়েছে টবি র‌্যাডফোর্ডেরও।

টবি দুই মেয়াদে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সহকারী কোচ ও ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ যখন ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে পূর্নাঙ্গ সিরিজ খেলছিল তখন দলটির সহকারী কোচ ও ব্যাটিং পরামর্শক ছিলেন টবি। ওই সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে দাঁড়াতেই পারেনি। ক্যারিবিয়ান পেসে কাবু হয়ে তিন দিনেই ম্যাচ হারতে হয়েছিল টাইগারদের। বাংলাদেশের টেস্টের দুর্বলতাটা তখন থেকেই জানতেন টবি, দুই বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ খেলছিল তখন আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ছিলাম (সহকারী কোচ)। তিন দিনেই টেস্ট শেষ হয়ে গেল (বাংলাদেশের হার)। শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও অন্য পেস বোলাররা বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে উড়িয়ে দিল। কিন্তু তারপরই আমরা সাদা বলের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-২০) আলাদা একটা বাংলাদেশকে দেখলাম। ওয়ানডে ও টি-২০ উভয় সিরিজই জিতল তারা। আমি বোর্ডকে (বিসিবি) বলেছি, এমন খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই যারা টেস্ট ক্রিকেটে দাঁড়াতে পারে। তারা প্রযুক্তিতে ভালো হবে। ঘণ্টায় ৯০ মাইল বেগের বোলিং মোকাবিলা করতে পারবে, টানা পাঁচ ঘণ্টা ব্যাটিং করতে পারবে।’

টবি বুঝালেন, অর্থ ঝনকানি আর গ্লামার বা যে কারণেই হোক শুধু টি-২০ এর দিকে ঝোঁকা যাবে না। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো হতে হবে। তাহলে বাকি ফরম্যাটগুলোতে এমনিতেই ভালো করা যাবে, ‘স্থানীয় কোচদের সঙ্গে কথা বলে জানলাম, তরুণ ক্রিকেটাররা আসলে পর্যাপ্ত টেস্ট ক্রিকেট খেলে না। ফলে তারা মানসিকভাবে সব সময় স্কোর করতে চায়। আপনি যদি বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের দেখেন, কেন উইলিয়ামসন, বিরাট কোহলি, বেন স্টোকস, স্টিভ স্মিথ, তারা সব ফরমেটেই ভালো। তারা টেস্টের ভালো ক্রিকেটার। তাদের কাছে একটা দারুণ বেসিক আছে। আপনার কাছে বেসিক থাকে আপনি তা টি-২০ রূপে বিকশিত করতে পারবেন। ফলে আমি প্রথমে ছেলেদের সঙ্গে ভালো এবং কঠিন একটি কৌশল নিয়ে কাজ করছি।’