ফের তামিম-মেহেদীর ঝড়

image

কুমিল্লার বিপক্ষে ঝড়ো ফিফটির পর ম্যাচ শেষে মেহেদী অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই বলেছিলেন, তার ব্যাটিং পজিশনটা নির্ধারিত করে দেয়া হোক। তার কথা শুনেছে ঢাকা প্লাটুন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন নম্বরে নামলেন মেহেদী। দুই ম্যাচেই ঝড় তুলে করলেন ফিফটি। ফিফটি পেলেন তামিম ইকবালও। তাতে সিলেট থান্ডারকে স্রেফ উড়িয়ে দিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। জয় দিয়েই বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব শেষ করেছে ঢাকা। ২৪ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সিলেটকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে। জনসন চার্লস ও মোহাম্মদ মিথুনের ঝড়ো দুটি ইনিংস সিলেটকে এনে দিয়েছিল ১৭৪ রানের বড় পুঁজি। সেটিকে স্রেফ মামুলি বানিয়ে ফেলেন তামিম ও মেহেদী। ঢাকা ম্যাচ জিতেছে ৯ বল বাকি থাকতেই।

চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচ হারের পর টানা দুই জয় পেল ঢাকা। সব মিলিয়ে ষষ্ঠ ম্যাচে এটি তাদের চতুর্থ জয়। টানা চার হারের পর আগের ম্যাচে সিলেট পেয়েছিল প্রথম জয়। তবে সেই ধারা ধরে রাখতে পারল না সিলেট ।

মঙ্গলবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে সিলেটের শুরুটা ভালো ছিল না। মেহেদীর করা ইনিংসের প্রথম বলেই সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আন্দ্রে ফ্লেচার। ওভারের শেষ বলে আউট হতে পারতেন আরেক ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান চার্লসও। কিন্তু ডিপ মিড উইকেটে সহজ ক্যাচটা নিতে পারেননি আসিফ আলী। জীবন পেয়ে চার্লস তোলেন ঝড়। মাত্র ৩২ বলে করেন ফিফটি। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে ৪৫ বলে ৩ চার ও ৮ ছক্কায় তিনি করেন ৭৩ রান। এর আগে আউট হওয়া আবদুল মজিদ এদিনও দুই অঙ্কে যেতে পারেননি। এদিন ব্যর্থ হন অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনও। শেষ পর্যন্ত সিলেট ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের পুঁজি পায় মূলত মিথুন ও শেরফান রাদারফোর্ডের কল্যাণে। ৩১ বলে একটি চার ও ৪ ছক্কায় ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন মিথুন। আসরে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা রাদারফোর্ড ২৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪ ওভারে ২৬ রানে ২ উইকেট নিয়ে ঢাকার সেরা বোলার শহীদ আফ্রিদি। আরেক পাকিস্তানি স্পিনার শাদাব খান ২৩ রানে ও মেহেদী ৩৩ রানে নেন ১টি করে উইকেট। লক্ষ্য তাড়ায় ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে ঢাকাকে ভালো সূচনা এনে দেন তামিম ও এনামুল হক বিজয়। বিজয় অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি এদিনও। ২৩ বলে ৩২ রান করা বিজয়কে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। এরপর টানা দ্বিতীয় ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে ঝড় তোলেন মেহেদী। তামিম শুরুতে স্ট্রাইক রোটেট করে খেলছিলেন। পরে আক্রমণ শুরু করেন তিনিও। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ফিফটি তুলে নেন ৩৯ বলে। রাদারফোর্ডকে চার মেরে মেহেদী ফিফটি পূর্ণ করেন মাত্র ২৩ বলে। আগের ম্যাচে তিনি ফিফটি ছুঁয়েছিলেন ২২ বলে। ইবাদত হোসেনকে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হওয়ার আগে ২৮ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৮ রান করেন মেহেদী। তামিমের সঙ্গে তার জুটি ৮৭ রানের। দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়ার আগে তামিম ৪৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬০ রান। টানা দুই চারে ম্যাচ শেষ করা জাকের আলী ১১ বলে ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : সিলেট থান্ডার ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (চার্লস ৭৩, মিঠুন ৪৯*; সাদাব ১/২৩, আফ্রিদি ২/২৬)

ঢাকা প্লাটুন ১৮.৩ ওভারে ১৭৫/২, (তামিম ৬০*,মেহেদি ৫৬; মোসাদ্দেক ১/৩০, এবাদত ১/২৪)

আজ ও আগামীকাল খেলা নেই।

২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় তৃতীয় পর্ব