বার্সেলোনাকে দুই হালি গোলের লজ্জা দিল বায়ার্ন

image

বার্সেলোনা লজ্জাজনক পরাজয়ের মধ্য দিয়ে চলতি মওসুম শেষ করেছে। শুক্রবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে লিওনেল মেসির বার্সেলোনা। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপটের সাথে খেলে বার্সেলোনার জালে দুই হালি গোল দেয় জার্মান দলটি। যদি বার্সেলোনার জার্মান গোলরক্ষক মার্ক আন্দ্রে টার স্টেগেন দারুন কিছু সেভ না করতেন তাহলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো। বায়ার্ন মিউনিখের এতটাই দাপট ছিল যে খেলায় একবারের জন্যও মনে হয়নি এ ম্যাচে বার্সেলোনা জিততে পারে। বিরতির সময়ই দেখার বিষয় হয়ে দাড়ায় যে ব্যবধান কত বড় হতে পারে। মনে করা হচ্ছে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ইতিহাসে বার্সেলোনার জন্য এটাই ছিল সবচেয়ে লজ্জার পরাজয়।

কোচ কিকে সেটিয়েন এ ম্যাচে বলতে গেলে একটিই বড় পরিবর্তন আনেন এবং সেটি হলো বায়ার্নের সাবেক খেলোয়াড় আর্তুরো ভিদালকে প্রথম একাদশে রাখা। যে কারণে অ্যান্টনি গ্রিজম্যানকে বসে থাকতে হয় অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে বেঞ্চে। আগেই বলা হচ্ছিল ম্যাচটি হবে লিওনেল মেসি এবং রবার্ট লেফানডস্কির মধ্যেকার দ্বৈরথ। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। মেসিকে কোন সুযোগই দেয়নি বায়ার্নের খেলোয়াড়রা। এটা ছিল মেসির জন্যও ব্যক্তিগতভাবে একটি বাজে ম্যাচে। লেফানডস্কি গোলদাতার তালিকায় নাম লেখালেও তিনিও অবিশ^াস্য কিছু করতে পারেননি। আসলে বায়ার্ন জিতেছে দলগতভাবে চমৎকার খেলে। মাত্র চার মিনিটের মাথায়ই গোল খেয়ে বসে বার্সেলোনা। বাম দিক থেকে ইভান পেরিসিচ ক্রস করেন পেনাল্টি বক্সের ঠিক শীর্ষে, সেটি টমাস মুলার ওয়ান টাচে দেন লেফানডস্কিকে। এ পোলিশ তারকা সেটি একটু সামনে ফেরত দিলে প্লেসিং শট গোল করেন টমাস মুলার। এ গোলের পর অবশ্য খুব বেশী সময় নেয়নি বার্সেলোনা খেলায় ফিরতে। যদিও তারা সমতায় ফেলে ডেভিড অ্যালাবার আত্মঘাতি গোলে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলটি পেয়ে যায় বার্সেলোনা। ৭ মিনিটের সময়ে বাম দিক থেকে লুইস সুয়ারেজের উদ্দেশ্যে ক্রস করেন জর্দি অ্যালবা। সেটি প্রতিহত করতে গিয়ে অ্যালাবা বল পাঠিয়ে দেন নিজেদের জালেই। এর পর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বার্সেলোনা। এর দুই মিনিট পর মেসির পাস থেকে চমৎকার জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন সুয়ারেজ। তিনি চেষ্টা করেছিলেন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে এড়িয়ে সেটি জালে পাঠাতে। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। নয়্যার কিছুটা সামনে এগিয়ে গিয়ে বাধার সৃষ্টি করেন এবং কর্নারের বিনিময়ে তিনি দলকে সে যাত্রা রক্ষা করেন। কর্নার কিক থেকে চমৎকার একটি ক্রস করেছিলেন মেসি। সার্জিও বুসকুয়েট সেটিতে মাথা লাগাতে ব্যর্থ হন এবং বল পোস্টে লেগে বাইরে যায়। এ পর্যন্ত মনে হয়েছিল ম্যাচে বার্সেলোনা লড়াই করতে সমর্থ হবে। কিন্তু তা হয়নি। এর পর তারা আরও সাতটি গোল হজম করেছে। ২২ মিনিটের মাথায় সার্জি রবার্তোর কাছ থেকে বল পেয়ে পেরিসিচ দ্রুত এগিয়ে যান বল নিয়ে এবং কঠিন অ্যাঙ্গেল থেকে করেন দলের দ্বিতীয় গোল। যদিও স্টেগেন বলে পা লাগিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সেটি জালে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারেননি। ২৭ মিনিটে আবারও গোল খায় বার্সেলোনা। বার্সেলোনার সীমায় গোরেটস্কার পাস ধরে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে সেটি জালে পাঠান সার্গি গনাব্রি। বায়ার্নের চাপে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ আরও একবার ভুল করে এবং তার খেসারত হিসেবে খায় চতুর্থ গোল। ৩০ মিনিটে জসুয়া কিমিচের ক্রস ক্লেমেন্ত লেংলেট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে সেটি থেকে দলের চতুর্থ এবং নিজের দ্বিতীয় গোল করেন টমাস মুলার।

বিরতির আগেই চার গোল খাওয়ায় বার্সেলোনার কোচ কিকে সেটিয়েন বাধ্য হয়েই বিরতির সময়ই খেলোয়াড় পরিবর্তন করেন। সার্জি রবার্তোর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় গ্রিজম্যানকে। কিন্তু তাতে খেলার চিত্র খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে বায়ার্নই। যদিও ৫৭ মিনিটে সুয়ারেজ সুন্দর একটি গোল করে ব্যবধান ৪-২ করতে সমর্থ হয়েছিলেন। তখন মনে হয়েছিল বার্সেলোনা হয়তো ঘুরে দাড়াবে। কিন্তু তা হয়নি, আলফনসো ডেভিসের চমৎকার একটি পাস থেকে কিমিচ সহজেই গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন ৫-২ গোলে। ডেভিস বাম দিকে কর্নার ফ্লাগের কাছ থেকে বল নিয়ে সেমেডোকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পোস্ট থেকে সামান্য একটু সামনে দিলে সেটিতে কেবল পা লাগাতে হয়েছে কিমিচকে। এর পর বদলি হিসেবে আনসু ফাতিকে নামান বার্সেলোনার কোচ। অপর দিকে বার্সেলোনা থেকে ধারে বায়ার্নে খেলতে যাওয়া ফিলিপ কুটিনহো সুযোগ পান বদলি হিসেবে নামার। মাঠে নেমেই তিনি বুঝিয়ে দেন বড় ম্যাচ খেলায় তিনি কতটা কার্যকর। তার তৈরী করা সুযোগ থেকে লেফানডস্কি করেন নিজের প্রথম গোল ৮৩ মিনিটে। এর পর ৮৫ ও ৮৯ মিনিটে কুটিনহো করেন দুই গোল এবং বায়ার্ন জয়ী হয় ৮-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে। যদিও শেষ গোল করার পর কুটিনহো হাত তুলে যেন ক্ষমাই চাইলেন বার্সেলোনার কাছে। তিনি সেভাবে গোলের পর উল্লাসও করেননি।

কয়েকদিন আগে বায়ার্নের সাবেক খেলোয়াড় লোথার ম্যাথুজ বলেছিলেন বায়ার্নকে হারতে হলে খুব বেশী খারাপ খেলতে হবে। তার কথাই সত্যি হয়েছে। এই বায়ার্নকে হারানোর সামর্থ নেই বার্সেলোনার। সেই দলে মেসির মতো তারকা থাকা সত্ত্বেও।