বিশ্বকাপ ব্যর্থতা পেছনে ফেলে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন লঙ্কা-বাংলার

image

সদ্য সমাপ্ত আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী খেলতে পারেনি বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ঝেড়ে নতুন সূচনার সময় এখন তাদের। শ্রীলঙ্কা সফরে তিন ম্যাচ ওডিআই সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই সিরিজটাকে দুই দলই ঘুরে দাঁড়ানোর সিরিজ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এবারের বিশ্বকাপে গিয়েছিল সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু কিছুটা কপালের ফেরে ১০ দলের বিশ্বকাপে অষ্টম হয়ে শেষ করে টাইগাররা। এর জের ধরে বরখাস্ত হয়েছেন টাইগার কোচ স্টিভ রোডস। দলে নেই ক্যারিজমাটিক অধিনায়ক মাশরাফি মোর্ত্তুজা। সহ-অধিনায়ক তথা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ছুটি নিয়েছেন। বিয়ের দিনক্ষণ পড়ে যাওয়ায় ছুটিতে আছেন ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসও। ইনজুরিতে দলের বাইরে পেস বোলার সাইফুদ্দিন।

নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফির ইনজুরির কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন তামিম ইকবাল। তার নেতৃত্বে দল বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঝেরে ফেলতে চাইবে।

শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ দল কিন্তু ইতোমধ্যে সেই বার্তা দিয়ে রেখেছে। শ্রীলঙ্কান বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিরুদ্ধে প্রায় তিনশ’ রানের জয়ের টার্গেট ১১ বল এবং পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই টপকে যায় টাইগাররা। ওই ম্যাচে মোহাম্মদ মিথুন এবং মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে নিজেদের পুরোনো ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মিথুন অবশ্য নিজের ইনিংসটাকে প্রায় তিন অঙ্কের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। পেস বোলার রুবেল হোসেনের সঙ্গে পার্ট টাইম বোলার সৌম্য সরকারও উইকেটের দেখা পেয়েছেন। এদিকে পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টের শক্তি বাড়ানোর তাগিদে নির্বাচকরা দলে ডেকেছেন শফিউল ইসলামকে। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ ওডিআই ম্যাচ খেলা বাঁহাতি স্পিন বোলার তাইজুল দলে এসেছেন সাকিবের জায়গায়। প্রায় একবছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এনামুল অনেকদিন পর ফিরেছেন ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে। বিশ্বকাপে দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করা খালেদ মাহমুদ এবার অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে শ্রীলঙ্কায় গেছেন। নতুন অধিনায়কের নেতৃত্বে এবং অন্তর্বর্তীকালীন কোচের তত্ত্বাবধানে দলে ফেরত আসা ক্রিকেটাররা নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে চাইবেন।

স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে পারে, গত ইস্টার সানডেতে গীর্জায় আত্মঘাতি বোমা হামলায় আড়াইশ’জনের বেশি ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথম কোন বিদেশি দল হিসেবে টাইগাররা শ্রীলঙ্কা সফর করছে। যে কারণে বাংলাদেশ দলের জন্য ভিআইপি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। টাইগারদের হোটেলে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে, টিম বাসে দেয়া হয়েছে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।

এদিকে বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারতেœ বলেছিলেন, তার দল আছে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মধ্যে, আর এই পথে প্রথম এজেন্ডা বাংলাদেশ সিরিজ।

শ্রীলঙ্কার জন্য সিরিজের প্রথম ওডিআই তথা আজকের ম্যাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ওডিআই ফরম্যাটকে বিদায় জানাবেন দলের পরীক্ষিত স্ট্রাইক বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। তার অভাব সহজে সম্ভবত পূরণ করতে পারবে না লঙ্কানরা। যে কারণে তার বিদায়ী ম্যাচটাকে স্মরণীয় করে রাখতে সতীর্থরা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে চাইবে।

বলে রাখা ভালো, শ্রীলঙ্কার হয়ে ওডিআইতে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক লাসিথ মালিঙ্গা। ২২৫ ম্যাচে তার শিকার করা উইকেটের সংখ্যা ৩৩৫টি। তার আগে ৩৯৯টি উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন চামিন্দা ভাস এবং ৫২৩টি উইকেট নিয়ে এক নম্বরে আছেন মুত্তিয়া মুরালিধরন। আজকের ম্যাচে আর মাত্র তিনটা উইকেট শিকার করতে পারলেই অনিল কুম্বলের সমান ৩৩৭টি উইকেট নিয়ে ওডিআইতে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় নবম স্থানে নিজের নামটা বসাবেন মালিঙ্গা।

লঙ্কান অধিনায়ক দ্বিমুথ করুনারতেœ অবশ্য বলেছেন, মালিঙ্গার শূন্যস্থান পূরণ করা ছাড়াও দলের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কুশল পেরেরা, আভিষ্কা ফার্নান্ডো এবং কুশল মেন্ডিস ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের মতো তারকা ক্রিকেটারদের কাছ থেকে সেরা নৈপুণ্য আশা করেন লঙ্কান অধিনায়ক।

সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং। তিন ডিপার্টমেন্টেই দুর্বলতা দেখা গেছে লঙ্কানদের। ফলে বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলার চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে আসন্ন এই সিরিজ শ্রীলঙ্কার জন্য খুব সহজ হবে বলে মনে হয় না।

তবে বিশ্বকাপ দলের বাইরে থাকা নিরোশান ডিকওয়েলা, লাহিরু কুমারা, আকিলা ধনঞ্জয়া এবং লক্ষন সান্দাকানের মতো পরীক্ষিত সৈনিকরা দলে আবারও ডাক পেয়েছেন বিধায় তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ দলের জন্যও কাজটা সহজ হবে না।

বিশ্বকাপের অবস্থান বিবেচনায় পয়েন্ট তালিকার ছয় নম্বরে ছিল শ্রীলঙ্কা, আর বাংলাদেশ ছিল আট নম্বরে। কাজেই শক্তির বিচারে দুটো দলের কেউই কারও থেকে খুব বেশি এগিয়ে নেই। বাংলাদেশের স্কোয়াডে যেমন বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে, ঠিক তেমনটাই শ্রীলঙ্কার স্কোয়াডেও। সবচেয়ে বড় কথা দুটো দলই চাইছে ঘুরে দাঁড়াতে। কাজেই কলম্বোর প্রেমদামসা স্টেডিয়ামে আজ জমজমাট একটা লড়াইয়ের প্রত্যাশা করতেই পারেন ক্রিকেট ভক্তরা।