ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

image

ভারতকে হারিয়ে বাঁধভাঙা উল্লাস বাংলাদেশ দলের-সংবাদ

শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১ নভেম্বর) নেপালের আনফা কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে বাংলাদেশ ৪-২ গোলে হারায় ভারতকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র ছিল। দিনের অন্য সেমিফাইনালে নেপালকে ০-৪ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেছে পাকিস্তান। শনিবার পাকিস্তানের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে লড়বে বাংলাদেশ।

১৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ের ৯০ মিনিটেও কোন গোলের দেখা মিলছিল না। ইনজুরি সময়ে পেনাল্টি থেকে আশিকুর রহমান গোল করলে লড়াইয়ে ফিরে আনেন বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্টের বাইলজ অনুযায়ী সরাসরি টাইব্রেকার। সেখানেই তৌহিদুল ইসলাম, রাজা আনসারি, কামরান উদ্দিন ও রোস্তম ইসলাম দুখু মিয়া অসাধারন দক্ষতায় চারটি গোল করেন। তবে সবাইকে ছাপিয়ে বাংলাদেশ দলের নায়ক হয়ে ওঠেন নেপাল ম্যাচে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া গোলকিপার মেহেদী হাসান। বেনাপোলের এই কৃতী সন্তান ভারতের দুটি শট ফিরিয়ে দেন। কারন নেপালকে হারানোর ম্যাচে লালকার্ড পাওয়ায় সেরা চারের লড়াইয়ে দলের পোস্টের নিচে ছিলেন না নিয়মিত গোলকিপার মিতুল মারমা। যার ফলে দলে সুযোগ পেয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেন মেহেদী।

কোচ মোস্তফা আনোয়ার পারভেজ বাবু দারুণ খুশি, ‘ভারত খুবই শক্ত প্রতিপক্ষ ছিল। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেমিফাইনালের শুরু থেকেই চড়াও হয়ে খেলতে থাকি। যেভাবে বলেছিলাম, ছেলেরা সেভাবেই খেলেছে। তবে কাউন্টার অ্যাটাকে একটি গোল হজম করেই আমরা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যাই। কিন্তু গোলকিপার মেহেদী হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যতায় ফাইনালে উঠেছি।’ সমতা সূচক গোল করা আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে দুই গোল করেছিলাম। কোচ আমার ওপর ভরসা করেছেন। সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছি পেনাল্টি থেকে গোল করে। এবার আমাদের লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন।’ গোলকিপার মেহেদী হাসানের কথা, ‘এখন আমরা ফাইনালিষ্ট। খুব ভালো লাগছে। তবে আনন্দে গাঁ ভাসিয়ে দিলে চলবে না। যদি ফাইনালে জিততে পারি, তাহলে বিদেশের মাটিতে দেশের লাল সবুজ পতাকা উড়াতে পারব। দেশের জন্য সম্মান নিয়ে যেতে পারব।’

যদিও ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মিডফিল্ডার পাত্রে হার্শ শৈলাসের দূরপাল্লার শট গোলকিপার মেহেদী হাসানকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ালে ১৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। তবে মিনিট বিশেক পর নাজমুল আহমেদের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় দল। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না বাংলাদেশ। হতাশার চাদর যখন লাল সবুজ শিবিরকে আচ্ছন্ন করতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে আশার আলো হিসেবে আবির্ভূত হন আশিকুর রহমা। স্পট কিকে দলকে সমতায় ফেরান এই বদলি ফরোয়ার্ড। ডান দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো বল বক্সের মধ্যে রাসেল আহমেদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় ফাউলের শিকার হন। ফলে পেনাল্টির বাঁশি দেন মালদ্বীপের রেফারি জিম আলী। পরে পেনাল্টি থেকেই সাফল্য বয়ে আনেন আশিক। টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয় গোল করলেন আশিকুর। এর আগে গ্রুপ পর্বে মালদ্বীপকে বিধ্বস্ত করা ম্যাচেও দু’গোল করেছিলেন এই ফরোয়ার্ড।