ভারতের বিদায়, ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

image

আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় অশ্রুসজল রোহিত শর্মা

পেন্ডুলামের মতো ম্যাচভাগ্য দুলেছে একবার এদিকে তো আরেকবার ওদিকে। একপেশে হওয়ারও ইঙ্গিত ছিল মাঝে মাঝে। আবার লড়াই জমে গেছে হঠাৎ। উত্তেজনা ছিল চরমে। নাটকীয়তার কমতি ছিল না কখনো। বৃষ্টির কারণে দুদিনে গড়ানো এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচটা হয়ে থাকল ক্রিকেটের সেরা বিজ্ঞাপনগুলোর একটা। এই বিজ্ঞাপনে হাসলো নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় দলকে ১৮ রানের ব্যবধানে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কিউইরা উঠে গেল বিশ্বকাপের ফাইনালে।

বৃষ্টির কারণে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালের প্রথম দিন মঙ্গলবার ৪৬.১ ওভারে তোলা ২১১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন বুধবার ব্যাটিংয়ে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। ভুবনেশ্বর কুমার আগের দিনের অসমাপ্ত ওভারের বাকি পাঁচটি বলে ৬ রান খরচ করেন। পরের ওভারে বল করতে এসে বুমরাহ দেন ৮ রান। তবে শেষ বলে রবীন্দ্র জাদেজার দুরন্ত থ্রোয়ে রানআউট হন রস টেলর। ফিরে যাওয়ার আগে ৯০ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। ৪৯তম ওভারে ৭ রানের বিনিময়ে টম লাথাম (১১ বলে ১০) ও ম্যাট হেনরির (২ বলে ১) উইকেট তুলে নেন ভুবনেশ্বর। শেষ ওভারে বুমরাহর কাছ থেকে মাত্র ৭ রান পায় নিউজিল্যান্ড। মিচেল স্যান্টনার ৬ বলে ৯ ও ট্রেন্ট বোল্ট ৩ বলে ৩ রান করে অপরাজিত থাকলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে আট উইকেটে ২৩৯ রানের মোটামুটি মানের একটা সংগ্রহ পায় কিউইরা।

মোটামুটি বলা হচ্ছে এ কারণে যে, রোহিত শর্মা লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলির মতো টপ অর্ডার এবং হার্দিক পান্ডিয়া ও মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো বিশ্বসেরাদের নিয়ে গড়া ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপের কাছে এই রান নস্যিতুল্য হওয়ারই কথা। কিন্তু শেষ তিন ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হ্যামিল্টনে ৯২ রানে অল আউট হওয়ার পর ওয়েলিংটনে ১৮ রানে চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়েছিল ভারত। সর্বশেষ চলতি বিশ্বকাপের ওয়ার্ম আপে লন্ডনে ১৫৯ রানে অল আউট হওয়ার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিতেই যেন ভারতের টপ অর্ডার একে একে ধরলেন সাজঘরের পথ।

মাত্র ২৪০ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ম্যাট হেনরি, ট্রেন্ট বোল্ট, মিচেল স্যান্টনারদের দাপটে চোখে সর্ষে ফুল দেখলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে ম্যান ইন ব্লুজরা। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

ম্যাট হেনরির করা প্রথম স্পেলের টানা দুই ওভারেই এবারের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলকে। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে রোহিত শর্মাকে (১) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হেনরি। পরের ওভারের চতুর্থ বলেই বিরাট কোহলিকে (১) লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে জড়ান ট্রেন্ট বোল্ট। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লোকেশ রাহুলও (১) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে আসলে ওখানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ভারতের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা।

টপ অর্ডারের এহেন দুর্দশায় খোলসের মধ্যে ঢুকে যাওয়া ফর্মহীন দিনেশ কার্তিকও হেনরির বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্যক্তিগত ৬ রানে।

মিচেল স্যান্টনারের বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথে হাঁটেন ঋষভ পন্ট। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৬ বলে ৩২ রান করেন। টিকতে পারেননি হার্র্দিক পান্ডিয়াও। তার সংগ্রহ ৩২ রান। স্যান্টনারের বলে কেন উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

মাত্র ৯২ রানে ছয় উইকেট হারানো ভারতীয় দলকে কিছুটা সময়ের জন্য ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা। দুজনে ১০৪ বলে যোগ করেছিলেন ১১৬ রান। দলীয় ২০৮ রানে হার্ডহিটার রবীন্দ্র জাদেজাকে ট্রেন্ট বোল্ট ফেরালে ভারতের জয়ের শেষ সম্ভাবনাটুকুরও মৃত্যু ঘটে। ৫৯ বলে চারটি করে ছক্কা ও বাউন্ডারির মারে ৭৭ রান করে কেন উইলয়ামসনের হাতে ধরা পড়েন জাদেজা।

ধোনি ব্যক্তিগত ৫০ রানে মার্টিস গাপটিলের দুর্দান্ত থ্রোয়ে রান আউট হন। ব্যাট করতে নেমে কোন রান না করেই সাজঘরে ফেরেন ভুবনেশ্বর। ৫ রান করে যুুজবেন্দ্র চাহাল ফিরলে ভারত থামে ২২১ রানে।

মামুলি সংগ্রহটা ধরে রাখার পথে তিন উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন কিউই বোলার ম্যাট হেনরি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর : নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ২৩৯/৮ (গাপটিল ১, নিকোলস ২৮, উইলিয়ামসন ৬৭, টেলর ৭৪, নিশাম ১২, গ্র্যান্ডহোম ১৬, ল্যাথাম ১০, স্যান্টনার ৯*, হেনরি ১, বোল্ট ৩*; ভুবনেশ্বর ১০-১-৩৪-৩, বুমরাহ ১০-১-৩৯-১, পান্ডিয়া ১০-০-৫৫-১, জাদেজা ১০-০-৩৪-১, চাহাল ১০-০-৬৩-১)।

ভারত ৪৯.৩ ওভারে ২২১ ( রাহুল ১, রোহিত ১, কোহলি ১, পান্ত ৩২, কার্তিক ৬, পান্ডিয়া , ধোনি ৫০, জাদেজা ৭৭, ভুবনেশ্বর ০, চেহেল ৫, বুমরাহ ০*; বোল্ট ১০-২-৪২-২, হেনরি ১০-১-৩৭-৩, ফার্গুসন ১০-০-৪৩-১, নিশাম ৭.৩-০-৪৯-১ , স্যান্টনার ১০-২-৩৪-২)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ম্যাট হেনরি।