download

মাশরাফির শেষ নেতৃত্বে ম্যাচ রাঙাতে চায় টাইগাররা

image

নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশেষ করে পঞ্চাশ ওভারের ফরম্যাটকে ভিন্ন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন মাশরাফি মোর্তুজা। তার নেতৃত্বের অবসানের সম্ভাবনা নিয়েই শুরু হয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সেও কোন কিছু খোলাসা করেননি ম্যাশ। ঘোষণাটা দিলেন আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিরিজের শেষ ম্যাচের আগের প্রেস কনফারেন্সে। হ্যাঁ, সিলেটের চা বাগানের সবুজে ঘেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই নেতৃত্বের ইতি টানছেন মাশরাফি। আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচেই শেষবারের মতো টস করতে নামবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’। ২০০৯ সালে নেতৃত্ব পাওয়ার পর ইনজুরি উপেক্ষা করে ইনজেকশন নিয়ে যে মানুষটা দলকে জয় এনে দেয়ার জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে মন-প্রাণ উজাড় করে মাঠে দৌড়েছেন, ৮৭ ম্যাচে এনে দিয়েছেন ৪৯টা জয়, তার নেতৃত্বের শেষ ম্যাচটা জয় দিয়েই রাঙাতে চাইবে টাইগাররা। তাহলে যে অধিনায়ক হিসেবে ম্যাচ জয়ের হাফ সেঞ্চুরিটাও পূর্ণ হয়ে যায় মাশরাফি মোর্তুজার।

এই ম্যাচটা জিতলে অধিনায়ক হিসেবে প্রতিটা শেষ ম্যাচ জয়ের ষোলোকলাও পূর্ণ হবে তার। ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই তারিখে টেস্ট ক্রিকেটের নেতৃত্ব ছাড়ার ম্যাচে মাশরাফির দল ক্যারিবিয়ানদের পরাজিত করেছিল ৯৫ রানে। এরপর শ্রীলঙ্কা সফরে অনেক অভিমান নিয়ে ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল টি-২০ নেতৃত্ব ছাড়ার ম্যাচে ৪৫ রানে জয়ী হয় টাইগাররা। কাজেই এতদিন ধরে যার নেতৃত্বে দল বারবার সাফল্যের মুখ দেখেছে তাকে আজও জয় উপহার দিতে সতীর্থরা চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখবেন না।

তবে সিলেটের প্রথম ম্যাচে নিজেদের ওডিআই ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬৯ রানের ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করলেও দ্বিতীয় ম্যাচের শেষদিকে ডোনাল্ড তিরিপানোর দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে কাঁপন ধরেছিল টাইগারদের। কাজেই বাংলাদেশের বোলারদের আজ অনেক বেশি সতর্কতার প্রয়োজন পড়বে।

বেশ কিছুদিন পর বাংলাদেশের ক্রিকেট যে সিলেটের সবুজে প্রাণ ফিরে পেয়েছে তারা সাক্ষ্য দিচ্ছে দুই ম্যাচেই তিন শতাধিক রানের ইনিংস। টাইগারদের দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস ও তামিম ইকবাল যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ওডিআইতে শতরানের ইনিংস খেলেছেন। দলের স্কোর বাড়িয়ে নেয়ার কাজটা নাজমুল হোসেন শান্ত এবং মোহাম্মদ মিঠুন বেশ দায়িত্বের সঙ্গেই পালন করেছেন। তবে, আজকের একাদশে সম্ভবত দেখা যাবে না বাংলাদেশের ক্রিকেটে মি. ডিপেন্ডেবল নামে পরিচিত মুশফিকুরকে। পাকিস্তান সফরের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে দল থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন তিনি। শেষ পর্বেও না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান সফরে যাওয়ার জন্য নতুন একজন ক্রিকেটারকে সুযোগ দেয়ার স্বার্থে মুশফিককে শেষ ওডিআইতে ‘বিশ্রামে’ রাখা হচ্ছে। মুশফিকককে বাদ দিয়ে সদ্য বিয়ের পিড়িতে বসা সৌম্য সরকারকে রাখা হয়েছে স্কোয়াডে। যদিও একাদশে সৌম্যকে না রেখে মোহাম্মদ নাইম বা আফিফ হোসেনকে রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। অবশ্য আঙুলের ইনজুরিতে পড়া নাজমুল হোসেন শান্তর জায়গাতেও নাইমকে দেখা যেতে পারে।

বোলিং ডিপার্টমেন্টে বাংলাদেশের মতোই সমস্যা আছে জিম্বাবুয়েরও। সফরকারী দলে আসলে বোলিং ডিপার্টমেন্টে নেতৃত্ব দেয়ার কেউ নেই। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশের বাইরে ছিলেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার ক্রিস এমপফু। অভিষেক হয়েছে চার্লটন টিশুমার। তার সঙ্গে অল রাউন্ডার ডোনাল্ড তিরিপানো এবং কার্ল মুম্বা নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করছেন। টিনোটেন্ডা মুতুবদজি এবং ওয়েসলি মাদভেরি সামনের সারির স্পিনার নন কোনমতেই। যে কারণে সিকান্দার রাজাকে অনেকদিক সামাল দিতে হয়।

তবে মাশরাফির শেষ ম্যাচটায় চোখ রাঙাচ্ছে দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দলের পারফোরম্যান্স। সেই ম্যাচে দলের চারজন ব্যাটসম্যান হাফ সেঞ্চুরির ইনিংস খেলেছেন। টপ অর্ডারে বড় একটা পার্টনারশিপ হলে বিশেষ করে অধিনায়ক চামু চিভাবা, শন উইলয়ামস ও ব্রেন্ডন টেলর রান পেলে মাশরাফির শেষটা কেমন হয় বলা মুস্কিল।

বাংলাদেশ দলের সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে বোলিং ডিপার্টমেন্টে। বিশেষ করে ডেথ ওভার বোলিংটা ঠিকঠাক হচ্ছে বলে মনে হয় না। মোস্তাফিজুর রহমান ও সাইফউদ্দিন অবশ্যই নির্বাচকদের দৃষ্টিতে প্রথম কাতারে আছেন। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে আল আমিন হোসেন ও শফিউল ইসলামের বোলিং দেখে মনে হয়েছে যে, ওডিআইতে ছন্দ ফিরে পেতে এদের আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। দ্বিতীয় ম্যাচে মাশরাফি নিজের চিরচেনা ছন্দে ফেরার ইংগিত দিয়েছেন। ভেজা বলে কিছুটা সমস্যা হলেও মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন মেহেদি মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম।