রাজকোটে চাই রাজসিক জয়

image

সংকট কি তাহলে ভালো কিছু বয়ে আনে? হতে পারে। অন্তত ধর্মঘটজনিত টালমাটাল অবস্থা এবং সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার আঘাত নিয়ে ভারত সফরে তিন ম্যাচ টি-২০ সিরিজের প্রথমটায় বাংলাদেশের দাপুটে জয় সে কথাই বলছে। এই সংকটই হয়তো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে এনেছে। দিল্লির দূষণে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যেখানে টিকতে পারছিল না, সেখানে টাইগাররা দাঁতে দাঁত চেপে টি-২০তে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়টা ছিনিয়ে এনেছে। ভারতের বেশ কয়েকটা ইংরেজি দৈনিকের অনলাইন সংস্করনে বলা হয়েছে যে, ওইদিন নাকি দূষণে কাহিল বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বমিও করেছেন।

নিন্দুকেরা হয়তো বলবেন, বাংলাদেশের জয়টা এসেছে বিরাট কোহলি, জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া, ভুবনেশ্বর কুমার, কুলদীপ যাদব এমন কি মহেন্দ্র সিং ধোনিবিহীন ভারতের বিপক্ষে। নিন্দুকদের এই অযুহাত একপেশে। কেননা, বাংলাদেশ দলকে খেলতে হয়েছে বিশ্বসেরা অল রাউন্ডার তথা নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ছাড়া। দলে নেই দেশসেরা ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালও। ভারত সফরে যাওয়া দলটায় নেই স্ট্রাইক বোলার সাইফুদ্দিন। তাহলে? হ্যাঁ বুক চিতিয়ে ভারতের মাটিতে ভারতকে পরাজিত করেছে বঙ্গ শার্দুলরা।

দিল্লির প্রথম টি-২০ বাংলাদেশ দল আটজন বোলার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছিল। অবস্থাটা এমন ছিল যে, টাইগার পেসার তথা কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমানই নিজের কোটার দুই ওভার বোলিংয়ের সুযোগ পাননি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নবীন দলটার মাঝে জয়ের আত্মবিশ্বাস এবং ক্ষুধা দুটোই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিরিজের বাকি দুটো ম্যাচের একটা আজ রাজকোটে এবং পরেরটা নাগপুরে। দুটোর একটাতে জয় পেলেই ভারতের মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বপ্নপূরণ হবে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের। ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’ কোন দুর্যোগের জন্ম না দিলে আজ রাজকোটেই সিরিজ জয়ের কাজটা সেরে ফেলতে চায় টাইগাররা।

দিল্লির ম্যাচে তিন ওভার বল করে মাত্র ১১ রানের বিনিময়ে এক উইকেট শিকারী টাইগার স্পিনার আফিফ হোসেন বলেছেন, ভারতীয়রা কোন চাপ অনুভব করছে কিনা, আমাদের জানা নেই। আমরা সিরিজে জয়-পরাজয় নিয়েও ভাবছি না। নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেয়াই আমাদের মূল কাজ। ফলাফল যাই হোক না কেন, যার যার অবস্থানে দায়িত্বটুকু ভালোভাবে পালন করতে চাই আমরা।

রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের ম্যাচে ভারতীয়রা জয়ের জন্য মরণ কামড় দেবে বলে মিডিয়ায় যে রকম লেখালেখি চলছে, তা নিয়েও ভাবছেন না আফিফ।

তিনি বলেছেন, প্রথম ম্যাচে জয়ের পর আমরা অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমরা চাপমুক্ত। আশা করছি এ কারণেই দ্বিতীয় ম্যাচেও আমরা ভালো খেলব।

এদিকে সিরিজ শুরুর আগেই টাইগারদের নিয়ে সমীহের সুরে কথা বলেছিলেন ভারতের স্ট্যান্ড ইন অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের কাছে পরাজয় এখন ‘অঘটন’ নয়। যে কোন দলকে হারানোর ক্ষমতা রাখে টাইগাররা এবং তারা অনেক বেশি পরিণত।

চলতি সিরিজে সবচেয়ে অভিজ্ঞ বোলার ভারতের যুজবেন্দ্র চাহালের কন্ঠেও একই সুর শোনা যাচ্ছে। রাজকোটের ম্যাচের আগে তিনি বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ দলকে আমাদের প্রশংসা করা উচিত। দিল্লিতে অসাধারণ খেলেছে তারা।

ভারতের এই লেগ স্পিনারটি বলেছেন, আমরা জানি যে, আমরা বাংলাদেশের চেয়ে ভালো দল। তবে দিল্লিতে বাংলাদেশ দলের লড়াই ছিল অসাধারণ। মুশফিকুর রহিম হিসেবি ক্রিকেট খেলেছে। তামিম-সাকিব ছাড়াও দারুণ দল বাংলাদেশের। দলের নবীন লেগ স্পিনার আমিনুলও ভালো বোলিং করেছে। সাকিব-তামিমবিহীন বাংলাদেশকে দুর্বল ভাবার কোন কারণ নেই। তারা লড়াই করতে জানে।

পরের দুই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে চাহাল বলেন, তিন ম্যাচের সিরিজ। আমরা পিছিয়ে পড়েছি। তবে চাপে নেই। ঘুরে দাঁড়াব বলে আশা করছি।

রাজকোটের এই উত্তেজনায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে দূষণের মাঝে প্রথম টি-২০ ম্যাচটা তাও হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’ বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে আঘাত হানবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর। ঘূর্ণিঝড় দূর্বল হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজকোটে প্রবল বর্ষণের শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, স্টেডিয়ামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুবই ভালো। আজ সকালে যতই বৃষ্টি হোক না কেন, স্টেডিয়াম খেলার জন্য প্রস্তুত করতে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগবে। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু সাহা বলেন, ২০১৩ সালে ভারত-অস্ট্রেলিয়া একমাত্র টি-২০ ম্যাচের আগে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু পুরো ম্যাচই সেবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

রাজকোটের ম্যাচটা ভেসে গেলে বাংলাদেশ যে সিরিজ হারবে না, তা নিশ্চিত। কিন্তু এমনটা দেখতে চায় না টাইগার ভক্তরা। প্রকৃতির হাত ধরে ম্যাচ বাঁচানোর দিন যে গত হয়েছে অনেক আগে। খোদ ভারতীয়রাই তো সমীহ করছে টাইগারদের। রাজকোটে আরেকটা রাজসিক জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয়াই এখন লক্ষ্য।

যাহোক, সাত উইকেটের এই জয় পাওয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিয়েই রাজকোটে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে টাইগাররা। ঘূর্ণিঝড় ‘মহা’র চোখ রাঙানি থাকলেও সে সব নিয়ে ভাববার সময় নেই টাইগারদের।