শেষ ওভারে রোমাঞ্চকর জয় কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের

image

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ২৭তম ম্যাচে রুদ্ধশ্বাস এক জয় পেয়েছে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। এই ম্যাচে চট্টগ্রামের দেয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শেষ দুই ওভারে কুমিল্লার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৪ রান।

মেহেদী হাসান রানার ১৯তম ওভার থেকে মাত্র ৮ রান নেন অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান মালান এবং আবু হায়দার রনি। ফলে শেষ ওভারে জয় পেতে ১৬ রান দরকার ছিল চট্টগ্রামের। লিয়াম প্ল্যাঙ্কেটের করা শেষ ওভারের প্রথম বলটি থেকে এক রান নেন মালান।

এরপর দুই নম্বর বলে চার মেরে বসেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান আবু হায়দার রনি। শুধু তাই নয়, তৃতীয় বলটিতে বিশাল এক ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। চতুর্থ বলে একটি লেগ বাই হলে স্ট্রাইক পান মালান। কিন্তু পঞ্চম বলে দুর্ভাগ্যবশত রান আউটের শিকার হন কুমিল্লা দলপতি মালান।

শেষ বলে জয়ের জন্য যখন তিন রান প্রয়োজন ছিল কুমিল্লার তখনই প্ল্যাঙ্কেটকে চার মারেন মুজিব উর রহমান। ফলে রুদ্ধশ্বাস এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুমিল্লা। একই সঙ্গে প্লে-অফের স্বপ্নও জিইয়ে রাখে তারা। ম্যাচ শেষে জয়ের নায়ক বলা যায় আবু হায়দার রনি এবং মুজিব উর রহমানকেই।

অবশ্য পার্শ্বনায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখেন কুমিল্লার অধিনায়ক ডেভিড মালান। কেননা তার ৫১ রানের ৭৪ রানের ইনিংসটিই জয়ের ভিত গড়ে দেয় কুমিল্লার। ৪টি ছক্কা এবং ৫টি চারের সাহায্যে এই ইনিংস সাজান ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। যদিও শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি তিনি। এর আগে ম্যাচটির শুরুতে টস জিতে চট্টগ্রামকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানান কুমিল্লার অধিনায়ক ডেভিড মালান। এরপর খেলতে নেমে লেন্ডল সিমন্স এবং জুনায়েদ সিদ্দিকির ব্যাটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম। ২ ছক্কা এবং ৫ চারের সাহায্যে ৩৪ বলে ৫৪ রান করেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান সিমন্স। আরেক ওপেনার জুনায়েদ ৬ চারের সাহায্যে ৩৭ বলে ৪৫ রান করেন। এছাড়া শেষের দিকে ৪ ছক্কায় ২১ বলে অপরাজিত ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন ৩৩ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান জিয়াউর রহমান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স ১৫৯/৬ (সিমন্স ৫৪, জুনায়েদ ৪৫, জিয়াউর ৩৪* ; আল আমিন ১/৪০, ভিসা ১/২৮, সানজামুল ১/৩৩, সৌম্য ২/২০)।

কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ১৬১/৮ (রবি ১৭, ফন জিল ২২, মালান ৭৪, সৌম্য ৬, সাব্বির ১৮, আবু হায়দার ১২*; রুবেল ২/১৬, মেহেদি রানা ১/৩১, প্লাঙ্কেট ১/৪৬, জিয়াউর ১/৩৬, বার্ল ১/৯)।

ম্যাচসেরা : ডেভিড মালান