সৌম্য-লিটন ঝড়ে উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

স্কোর : বাংলাদেশ ২০০/৩ : জিম্বাবুয়ে ১৫২ (১৯ ওভার)

image

লিটন-তামিম জুটি রানের জন্য ছুটছে

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজে সিলেটের সবুজে প্রাণ ফিরে পাওয়া বাংলাদেশের দুই ওপেনার লিটন দাস ও তামিম ইকবাল ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন দুই ম্যাচের টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচেও। টস হেরে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পাওয়া টাইগারদের বড় সংগ্রহের মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছিলেন তারা। লিটন দাসের টি-২০ ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরির পর নববিবাহিত সৌম্য সরকারের ক্যারিয়ারসেরা ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে তিন উইকেটে বাংলাদেশের উঠল কাটায় কাটায় দুইশ’ রান। যা কিনা টি-২০তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। জয়ের জন্য ২০১ রানের বড় লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরু থেকেই বাংলাদেশের বোলারদের কাছে একে একে পরাস্ত হতে থাকলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারের এক ওভার বাকি থাকতেই ১৫২ রানে অলআউট হলো জম্বাবুয়ে। টেস্ট ম্যাচ জয়ের পর সফরকারীদেরকে ওডিআই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করা টাইগাররা ৪৮ রানের জয় পেল দুই ম্যাচ টি-২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে। সিরিজে বাংলাদেশ দল এগিয়ে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে দুর্দান্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন ওডিআই সিরিজ থেকেই ফর্মের তুঙ্গে থাকা দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। দুজনে উপহার দেন ৯২ রানের উদ্বোধনী জুটি। যা টি-২০তে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই দু’জনেই ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। দুই ওপেনারের মধ্যে লিটন একটু বেশিই মারমুখী মেজাজে ছিলেন। তিনি ৩১ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তামিম ইকবাল ৩৩ বলে ৪১ রান করে আউট হয়ে গেলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বিধ্বংসী মেজাজে থাকা লিটনের পাঁচ ছক্কা ও তিন বাউন্ডারিতে ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংসটি শেষ হয় সিকান্দার রাজার বলে লেগ বিফোর উইকেট হলে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর উইকেটে এসেই জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চড়াও হন সৌম্য। তাকে যোগ্য সঙ্গই দিচ্ছিলেন পাকিস্তান সফরে অনীহার কারনে সিলেটের শেষ ওডিআ্্্্্্ইতে একাদশের বাইরে থাকা মুশফিকুর রহিম। আট বলে বলে ২ ছক্কায় দুইশ’র ওপরে স্ট্রাইক রেটে ১৭ রান করা মুশফিক এমপফুর শিকার হলে ভাঙে সৌম্যর সঙ্গে ৪০ রানের জুটি। তবে সদ্য বিবাহিত সৌম্যর ব্যাটে সোমবার (৯ মার্চ) ছিল বিদ্যুতের গতি। মাত্র ৩০ বলে টি-২০ ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ইনিংসের শেষ দুই বলে টানা ছক্কা হাঁকিয়ে দলের স্কোর দুইশতে নিয়ে যান সৌম্য। অপরাজিত থাকেন ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৫ ওভার বাউন্ডারিতে করা ক্যারিয়ারসেরা ৬২ রানে। অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৯ বলে ১৪ রানে। আর বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০ ওভারে ৩ উইকেট ২০০ রান।

জয়ের জন্য ২০১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১১ রানেই ব্রেন্ডন টেলরকে (১) সাজঘরে পায় জিম্বাবুয়ে। শফিউলের বলে মিড উইকেটে সৌম্যর হাতে ধরা পড়েন তিনি। কামুনহুকাময়ের সঙ্গে ক্রেগ আরভিনের (৮) জুটিটা ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। আমিনুলের বলে কামুনহুকাময়ে (২৮) ও শন উইলয়ামসের (২০) প্রতিরোধ ভেঙে গেলে আর মাথা তুলে দাঁড়ায়নি জিম্বাবুয়ের ইনিংস। মাদভেরে (৪) হয়েছেন রানআউট। আফিফের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সিকান্দার রাজা (১০)।

সিলেটের দ্বিতীয় ওডিআইতে শেষদিকে ঝড় তোলা ডোনাল্ড তিরিপানো ১৩ বলে ২০ রান দিয়ে সাইফুদ্দিনের বলে স্ট্যাম্প খোয়ান। সোমবারের ম্যাচে বেশ কিছু এলোমেলো বল দিলেও মুম্বাকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করে শেষ উইকেটটার পতন ঘটান মোস্তাফিজুর রহমান। তখন এক ওভার বাকি থাকতেই ১৫২ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে।