‘মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে’

image

সুইং-বাউন্স ও শর্ট বলের ভয়েই নিউজিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজও হারাতে হলো। বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত টেস্ট অধিনায়ক জানান, মানসিকভাবে আরও শক্ত হতে হবে।

ওয়েলিংটন টেস্টের প্রথম দুই দিনে খেলাই হয়নি বৃষ্টিতে। তারপরও পরাজয়ের বৃত্ত ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ম্যাচ শেষ হয়েছে শেষ দিনে দুই সেশন আগেই। সব মিলে এ টেস্টে খেলা হয়েছে ২০১.৫ ওভার। দুই দিন ও এক সেশনেই জয় আদায় করেছে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। এই টেস্টের সঙ্গে অদ্ভূত মিল ২০০১ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টের। দেশের বাইরে সেটা ছিল বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট। হ্যামিল্টনে খেলা হয়নি প্রথম দুই দিন। তারপরও ম্যাচ শেষ হয়েছিল পঞ্চম দিন সকালে। সেবার খেলা হয়েছিল আরও কম, ১৮১.৪ ওভার। কার্যত দুই দিনেই হেরেছিল বাংলাদেশ। সোজা সাপটা কথা- নিজ মাঠে যে সবাই সেরা। এর কোন সদুত্তরই নেই। বাংলাদেশে মনের মাধুরী মিশিয়ে স্পিনিং উইকেট বানিয়ে বিশ্বের বাঘা-বাঘা দলগুলোকে নাস্তানাবুদ করে বাহবা পাওয়া গেলেও উন্নতি যে হয় না এটাই হাতেনাতে প্রমাণিত হলো।

যদিও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল্লাহর দাবি, উন্নতি হয়েছে! যেসব ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে, সেখানে আরও বেশি অগ্রগতি চান উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক বলেন, ‘১৭ বছরে...আমাদের ক্রিকেটারদের মানসিকতা ও স্কিলের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের কন্ডিশনে আরও ভালো করতে হলে মানসিকভাবে অনেক শক্ত হতে হবে। এছাড়া কোন বিকল্প নেই। প্রথম টেস্টে খেলা শুরুর আগেই আমি বলেছিলাম, আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। ম্যাচের আগেই যদি ভাবতে থাকেন যে সুইং হবে, সিম হবে, বাউন্স হবে, আউট হয়ে যেতে পারি, তাহলে ওখানেই আপনি হেরে যাবেন। ইতিবাচক থাকলে অন্তত ভালো পারফর্ম করার সুযোগ বেশি থাকে।’ তাহলে বুঝতে হবে ব্যাটসম্যানরা নেতিবাচক ছিলেন?

ওয়েলিংটনে এবার কন্ডিশনের পাশাপাশি উইকেটও ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। এতটা সবুজ ঘাসে ভরা উইকেটে বাংলাদেশ আগে খেলেছে খুব কমই। তারপরও উইকেটের সবচেয়ে কঠিন কাজটি সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছিল বাংলাদেশ। শুরুতে উইকেট হারায়নি। তামিম ইকবাল ও সাদমান ইসলাম দারুণ ব্যাট করে দলকে দেন ৭৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। কিন্তু দিন শেষে বোল্ট-সাউদি-হেনরিকদের সামলে দল ভেঙে পড়ে নিল ওয়াগনারের শর্ট বলে। ভয় ও দ্বিধা ও সাহসিকতার ঘাটতিতেই এ ব্যর্থতা মনে করেন মাহমুদুল্লাহ। বলেন, ‘তামিম ও সাদমান আমাদের খুব ভালো শুরু দিয়েছিল। এরপর ওয়াগনার যখন শর্ট বল থিওরি প্রয়োগ করতে শুরু করে, কিছুক্ষণ ভালো খেলার পর আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছি। আরেকটু দীর্ঘ সময় গাটস নিয়ে খেলা উচিত ছিল। আমাদের পেস আক্রমণে তিনজন নতুন বোলার। ওদের দায় দিয়ে লাভ নেই। দোষ ব্যাটসম্যানদেরই বেশি। আড়াই দিনে দুইবার অলআউট হওয়া চরম হতাশার। দ্বিধায় থেকে আমরা ভুল করছি। সংশয় নিয়ে শট খেলছি, পুরো আস্থা রাখছি না নিজের ওপর। মারব নাকি মারব না, এই ধরনের উইকেটে এই ভাবনা চলবে না। শট খেলতে চাইলে দ্বিধাহীনভাবে খেলতে হবে, ঠেকাতে চাইলে সেটাও। উপায় বের করতেই হবে। কারণ পরের টেস্টেও তারা বাউন্সার করবে। ক্রাইস্টচার্চে উইকেট গতিময়। ব্যাটসম্যানদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’ ওয়েলিংটনে ইনিংস ও ১২ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। তার আগে হ্যামিল্টনে হেরেছে ইনিংস ও ৫২ রানে। মাহমুদুল্লাহর বিশ্বাস, এই দলটি আরও ভালো করার সামর্থ্য রাখে। ‘আমার বার্তা ছিল ইতিবাচক থাকার, একই বার্তা সামনেও থাকবে। হয়তো শুনতে হাস্যকর শোনাবে, কিন্তু আমাদের যে দল আছে, তাতে আমরা আরও ভালো করার সামর্থ্য রাখি। স্রেফ আমাদের ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করতে হবে যে নিজের স্কিল দিয়ে কিভাবে দলে অবদান রাখতে পারি।’ হতাশাজনক এ দীর্ঘ সফরে বাংলাদেশের শেষ টেস্ট শুরু হবে শনিবার ক্রাইস্টচার্চে। ওয়েবসাইট।