সাফল্যের ঢাক বাজিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না

করোনা মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে

সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী তাদের বক্তব্যে করোনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে এ রোগের সংক্রমণ ও মৃত্যু হার দুটোই কম। তবে করোনা পরিস্থিতির বর্তমান প্রেক্ষাপট তিন মন্ত্রীর বক্তব্যকে কোনভাবেই সমর্থন করে না। করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতার কোন রকম প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং করোনা সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতির নমুনাই প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের গত মঙ্গলবার ১৫০তম দিন পার হয়েছে এবং দেড়শ’ দিন পরও সংক্রমণের হার ঊর্ধ্বমুখী। গত ৮ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ৫০ দিনে মারা গেছেন ১৪৫ জন ও শনাক্ত হয়েছেন ৫৪১৬ জন। প্রথম ৫০ দিনে নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৪৬ হাজার ৫৮৯ জনের। শনাক্ত হন ৫ হাজার ৪১৬ জন। তখন শনাক্তের হার ছিল ১১ দশমিক ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম ৫০ দিনের শনাক্তের হারের তুলনায় এখন শনাক্তের হার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শনাক্তের হার ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। সুস্থতার হার ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।

আমরা মনে করি, এ বাস্তবতায় সাফল্য দাবি করে আত্মপ্রসাদ লাভের কোন সুযোগ নেই। এবং করোনা মোকাবিলায় সাফল্য দাবি অযৌক্তিক, অবৈজ্ঞানিক এবং অগ্রহণযাগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকেই বোঝা যায়, একটি দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিনা। সংক্রমণ কমছে কিনা, তা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় ‘আরটি’র মান কত? একজন করোনা রোগীর মাধ্যমে কতজন সংক্রমিত হন, সেটাই সংক্রমণ হার বা ইফেকটিভ রিপ্রডাকশন রেট (আরটি)। আরটি-১-এর বেশি থাকার অর্থ সংক্রমণ পরিস্থিতি বিপজ্জনক পর্যায়ে। এটি অন্তত ২ সপ্তাহ একের নিচে থাকলে বলা যায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে এবং তা কমতির দিকে। এছাড়া রোগী শনাক্তের হার ও মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু কমে এলে বোঝা যায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে। বাংলাদেশে এসব নির্দেশকের বিশ্লেষণ সুস্পষ্ট নয়। করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না স্বাস্থ্য অধিদফতর। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষা কম হচ্ছে। অন্যদিকে পরীক্ষার ফলাফলে সামঞ্জস্য থাকছে না। সংক্রমণ কমার জন্য যেসব উদ্যোগ প্রয়োজন, সেগুলোর কোনটাই ঠিকমতো হচ্ছে না। উল্টো রহস্যজনক কারণে পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ অর্ধেকে নেমে এসেছে। সংক্রমণ এক জেলায় কমলে অন্য জেলায় বাড়ছে। ফি নির্ধারণসহ নানা ধরনের শর্ত আরোপ করায় মানুষ পরীক্ষা করতে আসছে না। উপসর্গ নেই এমন সন্দেহজনকদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তাছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে গেছেন এমন লোকজনদের কোয়ারেন্টিন করা হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যার কারণে নমুনা পরীক্ষার জন্য রোগীও কম আসছে। বৃষ্টির কারণেও লোকজন কম বাইরে বের হচ্ছেন। সংক্রমণের প্রকৃত গতি-প্রকৃতি জানার জন্য যেসব উপাত্ত দরকার, সেগুলো নিয়ে এক ধরনের লুকোচুরি করা হচ্ছে। ফলে করোনার সংক্রমণের সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।

দেশের কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। শারীরিক দূরত্ব মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। গণপরিবহন, কলকারখানা, অফিস-আদালত, দোকানপাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। জুনে সংক্রমণের মাত্রাভেদে জোনভিত্তিক লকডাউনের কথা বলা হলেও তা রহস্যজনক কারণে কার্যকর হয়নি। শুধু পূর্ব রাজাবাজার এবং ওয়ারীতে লকডাউন কার্যকর করা হলেও তাতে ওই এলাকাগুলোতেও সংক্রমণ কমেনি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দু-এক এলাকা লকডাউন করে যে কাজ হবে না সেটা বিশেষজ্ঞরা বারবার বলেছেন। পুরো রেড জোন একসঙ্গে লকডাউনের পরামর্শ ছিল তাদের। কিন্তু কেউ তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। অর্থাৎ অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণের দিকে মনোনিবেশ না করে হাল ছেড়ে দিয়েছে এবং বাংলাদেশের জনগণকে নিয়তির কাছে সপে দিয়েছে। আর এখন চোখ বন্ধ করে ক্রমাগতভাবে সাফল্যের ঢাক বাজিয়ে চলেছে।

করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এবং সেটা নিয়ন্ত্রণে কোনরকম পদক্ষেপ না নেয়া হলে দেখা যাবে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে কিন্তু বাংলাদেশে সংক্রমণ কমেনি, বরং অনন্তকালব্যাপী দুর্যোগ চলছে। ফলে পৃথিবীর কোন দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়াবে না, যোগাযোগ রাখবে না। ফলে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পৃথিবীর অনেক দেশই বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। তখন হয়তো আরও দেশ করবে। পরিণতিতে জীবন তো বটেই জীবিকাও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কাজেই উচ্ছ্বাস এবং অবাস্তব সাফল্যে আনন্দিত না হয়ে কীভাবে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে। এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। করোনা মোকাবিলায় সঠিক এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে সমন্বয়ের ভিত্তিতে অগ্রসর হতে হবে।

মতপ্রকাশের বাধাগুলো দূর করুন

তথ্য অধিকার আইন হওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের খুব কম মানুষই জানে এ সম্পর্কে।

ছাত্রলীগের অন্যায়-অপরাধের শেষ কোথায়

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

করোনাকালে বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে।

অসৎ পুলিশ সদস্যদের ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কোন অজুহাতেই উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড।

সাইবার অপরাধ রোধকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের কারণে যেমন যোগাযোগ বেড়েছে, তেমনি নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধও।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকগুলো যে জনগণের আমানতে

অনলাইন ক্লাস নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এ নিয়ে