করোনার দুঃসময়ে ইন্টারনেট সংযোগ অপসারণের কাজটি বন্ধ করুন

করোনা মহামারীর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ অপসারণে নামায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, দুশ্চিন্তায় ভুগছেন অভিভাবকরা। একজন অভিভাবক ফোনে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদকে বলেন, তার ছেলেমেয়ে অনলাইনে ক্লাস করছে। কিন্তু হঠাৎ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তার ছেলেমেয়ে অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না। করোনার সময়ে এভাবে ইন্টারনেট সংযোগ অপসারণ করলে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

করোনার দুঃসময়ে বাসাবাড়ির ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মহামারীর ঝুঁকি এড়াতে বাসায় বসেই স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস, চাকরিজীবীরা অফিস পরিচালনা, চিকিৎসকদের রোগী দেখা, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করা এবং আদালতে ভার্চুয়ালভাবে সব কিছু ইন্টারনেটের দ্বারা পরিচালনা করছেন। এছাড়াও টেলিমেডিসিন, বীমা, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, সফটওয়্যার, ই-কমার্স, ব্যাংক ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবা অনলাইনে দেয়া হচ্ছে। অনেকে আবার মানসিক চাপ কমাতে অনলাইনে দেশ-বিদেশে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, বিনোদন দেখছেন ও বিভিন্ন খবর পড়ছেন। করোনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখতে মানুষের মধ্যে অনলাইন নির্ভরতা বাড়লে ডিএসসিসি ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ অপসারণে নেমেছে। এতে সব ইন্টারনেট ব্যবহারকারী দুর্ভোগে পড়েছেন।

জানা গেছে, ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ উচ্ছেদ অভিযানের আগে এলাকায় কোন ধরনের মাইকিং করা হয়নি। নোটিশও দেয়া হয়নি। হঠাৎ করে ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ অপসারণে শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাস মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। করোনার সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ কিংবা পার্ক বন্ধ থাকায় বড়দের মতোই মানসিক চাপে আছে শিক্ষার্থীরা। বাসায় বসে অনলাইন ক্লাস ও টেলিভিশনে বিনোদন দেখে কিছুটা মানসিক চাপ কমছে শিক্ষার্থীদের। এ পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট কিংবা ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। প্রশ্ন হলো, এ অসময়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে এমন ধরনের অতি উৎসাহী কর্ম কেন? দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সিটি করপোরেশনের কর্তাব্যক্তিরা কি ওয়াকিবহাল নন? তারা কি বোঝেন না যে, এ মুহূর্তে যারা ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না বা বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকছেন তাদের মানসিক সুস্থতার জন্য বিরতিহীন ইন্টারনেট সেবা কতটা জরুরি? করোনার আগে কি রাজধানীতে ঝুলন্ত তার দৃশ্যমান ছিল না? তখন কেন বাড়তি তার অপসারণের কাজটি করা হয়নি? করোনার দুর্যোগে শিক্ষা, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, অফিস-আদালতসহ সব কাজের একমাত্র পাথেয় যখন ইন্টারনেট তখন পরিচ্ছন্নতার নামে বাসাবাড়ির ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়ে সিটি করপোরেশন কোন অসাধ্য জয় করছেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়।

নগরের সৌন্দর্য বাড়াতে ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আগে ইন্টারনেট সেবার বিষয়টি ভেবে দেখতে হবে। কারণ মাটির নিচ দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার কাজ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। বিকল্প ব্যবস্থা না রেখেই কোটি কোটি টাকার ক্যাবল নষ্ট করলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বেন। তাদের যেমন ক্ষতি হবে তেমনি অপূরণীয় ক্ষতি হবে ইন্টারনেট গ্রাহকদের। কাজেই বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কাজটি থেকে সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে, সবাইকে অবগত করে পর্যায়ক্রমে পরিচ্ছন্নতার কাজটি করা যেতে পারে। সে পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করা উচিত।

মতপ্রকাশের বাধাগুলো দূর করুন

তথ্য অধিকার আইন হওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের খুব কম মানুষই জানে এ সম্পর্কে।

ছাত্রলীগের অন্যায়-অপরাধের শেষ কোথায়

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

করোনাকালে বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে।

অসৎ পুলিশ সদস্যদের ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কোন অজুহাতেই উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড।

সাইবার অপরাধ রোধকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের কারণে যেমন যোগাযোগ বেড়েছে, তেমনি নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধও।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকগুলো যে জনগণের আমানতে

অনলাইন ক্লাস নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এ নিয়ে