কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে এবারও সিন্ডিকেটের কারসাজি

দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা কি নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

এবারও কোরবানির চামড়া নিয়ে কারসাজি হয়েছে বলে দাবি করছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোরবানির পশুর চামড়ার দামে আবারও বিপর্যয় ঘটানো হয়েছে বলে তাদের দাবি। এর জন্য তারা মূলত আগের মতোই চামড়া-সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে সরকারি অর্থাৎ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে এবং দায়িত্ব পালনে শিথিলতা ও দায়িত্বহীনতাকেও দায়ী করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ হচ্ছে সিন্ডিকেটের কারসাজি রোধে পূর্বের বছরগুলোর মতো এবারও সরকারের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর উদ্যোগ ছিল না। কোরবানির মৌসুমে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় যে উদ্যোগ অর্থাৎ সিন্ডিকেটের কারসাজি বা চামড়ার দাম নিয়ে কোন রকম কারসাজির বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যে কঠোর মনিটরিং থার দরকার ছিল তার কিছুই দেখা যায়নি। কিছু ঘোষণা এবং ফাকা বুলি আউড়িয়েই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব কর্তব্য শেষ করেছে। চামড়া সিন্ডিকেট যখন যখন কোরবানির পশুর দাম অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে অনৈতিকভাবে কয়েক হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য নিশ্চিত করে ফেলেছে তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে ঘোষিত মূল্য না মানলে ট্যানারি মালিকদের বিরুদ্ধে ভোক্তা আইনে মামলা করা হবে। এ যেন যার যার কাজ ভাগ করার ব্যাপার অর্থাৎ ডিভিশন অফ লেবার। চামড়া সিন্ডিকেট তাদের কাজ করে যাবে, কৌশল করে অনৈতিকভাবে চামড়ার দাম কমিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর ঠকিয়ে যাবে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে যেতে থাকবে কিন্তু এর বিরুদ্ধে কোন বছরই কিছু করবে না। এবারও ঠিক তাই ঘটেছে বা ঘটানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন সিন্ডিকেটের পাশাপাশি ঘোষিত মূল্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের যেমন মনিটরিং ছিল না, তেমনি ছিল সমন্বয়হীনতা, এছাড়াও শেষ মুহূর্তে রফতানির অনুমতি প্রদান এই বিপর্যয় সৃষ্টির অন্যতম কারণ।

হতাশ হয়ে ব্যবসায়ীরা চামড়া ফেলে দিয়েছেন এমন ঘটনা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের হতাশার কারণ অনুসন্ধান করে সুরাহা করার পরিবর্তে বাণিজ্য সচিবকে বলতে শোনা গেছে, চট্টগ্রামে ১২শ’ চামড়া ফেলার ঘটনাটি এক ধরনের সাবোটাজও হতে পারে। আমাদের দেশে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে ষড়যন্ত্র বা সাবোটাজ হিসেবে অভিহিত করবার একটা অসুস্থ সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে গেছে। এটা হচ্ছে দায়িত্ব এড়ানো এবং ব্যর্থতাকে আড়াল করবার একটি অগ্রহণযোগ্য এবং দায়িত্বহীন প্রচেষ্টা। তবে কী না দেশের মানুষকে বোকা এবং অসচেতন ভাববার ভুল বারবার করা সমীচীন নয়। মানুষ সবই দেখছে এবং সবই বুঝতে পারছে। তারা ঠিকই বোঝেন কোনটা ষড়যন্ত্র-সাবোটাজ আর কোনটা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এ বিপর্যয়ের দায় নিচ্ছে না কেউ। যেন এত বড় বিপর্যয় এমনি এমনি ঘটে গেল; কেউ পরিকল্পিতভাবে ঘটায়নি, যেন এখানে নেই কোন অনৈতিক ব্যবসায়ী পক্ষ বা সিন্ডিকেট। যেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোন দায়-দায়িত্বই নেই, নেই তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা। এরকম একটি অবাস্তব পরিস্থিতি এই দেশকে আর কতদিন দেখতে হবে সেটাই আমাদের জিজ্ঞাসা।

বিপর্যয় রোধ করবার কোন উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবার অন্তত সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করতে তো পারে যদি তারা তাদের দায়িত্ব পালনে সৎ প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। আমরা মনে করি এবার বিপর্যয় রোধ করা না গেলেও, ব্যবসায়ীদের পথে বসার মতো ক্ষতি থেকে রক্ষা করা না গেলেও এবং সিন্ডিকেটের রাঘববোয়ালদের চিহ্নিত করা এখনও সম্ভব। যদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের দায়িত্ব এখনও পালন করার চেষ্টা করে, তবে এবারের না হলেও ভবিষ্যতের সিন্ডিকেট-ষড়যন্ত্র রোধ করার লক্ষ্যে হোতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে এবারই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগী হতে পারে। তাহলে অন্তন্ত চামড়া ব্যবসায়ীরা আগামীতে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পেতে পারে। এটা সম্ভব, আমাদের প্রত্যাশা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজটি করবে। তবে, লাখ টাকার প্রশ্ন হলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজটি করবে কী না।

মতপ্রকাশের বাধাগুলো দূর করুন

তথ্য অধিকার আইন হওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের খুব কম মানুষই জানে এ সম্পর্কে।

ছাত্রলীগের অন্যায়-অপরাধের শেষ কোথায়

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

করোনাকালে বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে।

অসৎ পুলিশ সদস্যদের ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কোন অজুহাতেই উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড।

সাইবার অপরাধ রোধকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের কারণে যেমন যোগাযোগ বেড়েছে, তেমনি নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধও।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকগুলো যে জনগণের আমানতে

অনলাইন ক্লাস নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এ নিয়ে