প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া প্রসঙ্গে

প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার গত কয়েক বছর ধরে একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ জরিমানা অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৯ দশমিক ২০ শতাংশ ও ছাত্রী ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ। এই হিসাবে মেয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় ছেলে শিক্ষার্থী বেশি ঝরে পড়ছে। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কৃকাধিক বছর অধ্যয়ন করে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত সেটা জানা যায় না। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, প্রাথমিক স্তরে একই ক্লাসে একাধিক বছর অধ্যয়নের প্রবণতা অতীতের তুলনায় ঢের কমেছে। প্রাথমিকে আদতে কত শিশু ঝরে পড়ছে তার প্রকৃত চিত্র আমরা জানতে চাই। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা এখনও সেই উদ্যোগ নিচ্ছেন না কেন সেটা একটা প্রশ্ন।

গত কয়েক বছর ধরে প্রাথমিক ঝরে পড়ার হার ২০ শতাংশের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকার বলছে, প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। বাস্তবে ঝরে পড়ার হার এখনও সিঙ্গেল ডিজিটেই নামানো যায়নি। এক সময় মেয়ে শিক্ষার্থীর ঝরে পড়ার হার বেশি ছিল। উপবৃত্তির কারণে সেটা কমেছে। এখন ছেলে শিক্ষার্থী বেশি ঝরছে। এর কারণ হচ্ছে ছেলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন উপবৃত্তির আওতার বাইরে ছিল। বছর পাঁচেক আগে তাদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হলেও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

মূলত দারিদ্র্যের কারণে মূলধারার প্রাথমিক শিক্ষা থেকে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। অনেক দরিদ্র পরিবারই শিশুদের নানা কাজে লাগাতে বাধ্য হয়। এসব শিশুকে ক্লাসে ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তির টাকা যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি। দারিদ্র্য বাড়লে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বাড়বে। নভেল করোনাভাইরাসের আগেই দেশে দারিদ্র্য বাড়তে শুরু করেছে। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে দারিদ্র্য আরও বেড়েছে। এই অবস্থায় দরিদ্র অনেক পরিবারের পক্ষেই ছেলেমেয়েকে স্কুলে পাঠানো বা রাখা সম্ভব হবে না। দারিদ্র্য বিমোচন বা শিশুশ্রম বন্ধ করা না গেলে প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা কঠিন হবে। দেশে বাল্য বিবাহ চলছেই। মহামারীতে এটা আরও বেড়েছে। বাল্যবিয়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আরেক কারণ।

মূল ধারার অনেক বিদ্যালয় এখনও উপবৃত্তির আওতায় আসেনি। উপবৃত্তি পাচ্ছে না উপ-আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উপবৃত্তির আওতা বাড়ানো হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমবে। আমরা বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হলে সরকারকে একযোগে বেশ কয়েকটি কাজ করতে হবে। দারিদ্র্যের হার কমাতে হবে, শিশুশ্রম ও বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে হবে, উপবৃত্তির পরিধি বাড়াতে হবে, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সরকার প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে না কেন। পরিকল্পনা বা কাজের কোন স্তরে ঘাটতি আছে-সেটা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মতপ্রকাশের বাধাগুলো দূর করুন

তথ্য অধিকার আইন হওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের খুব কম মানুষই জানে এ সম্পর্কে।

ছাত্রলীগের অন্যায়-অপরাধের শেষ কোথায়

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

করোনাকালে বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে।

অসৎ পুলিশ সদস্যদের ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কোন অজুহাতেই উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড।

সাইবার অপরাধ রোধকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের কারণে যেমন যোগাযোগ বেড়েছে, তেমনি নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধও।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকগুলো যে জনগণের আমানতে

অনলাইন ক্লাস নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এ নিয়ে