স্বাস্থ্যসেবার নতুন পরিপত্রটি বাতিল করুন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর আবাসিক হোটেলে থাকা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিপত্র জারির পর চিকিৎসকরা চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন। পরিপত্র জারির কারণে ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবার সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই পরিপত্রে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা, খাওয়া ও যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী তারা টানা ১৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে পরবর্তী ১৫ দিন ছুটিতে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। তবে এই সময়ে তারা আবাসন সুবিধা পাবেন না। নিজেদের বাসা-বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। দায়িত্ব পালনকালে তাদের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত সরকারি ভবনে থাকতে হবে। আবাসিক সুবিধা না নিলে সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাবেন। হাসপাতাল থেকে সরকার নির্ধারিত আবাসস্থলে যাতায়াতের জন্যও সরকার নির্ধারিত যানবাহন ব্যবহার করতে হবে।

পরিপত্রের নতুন নিয়মে যে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই। হঠাৎ পরিপত্রের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। বলাবাহুল্য, করোনা সংক্রমণের পর থেকেই চিকিৎসাসেবা পেশায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি নিচ্ছেন। করোনা মোকাবিলায় তারাই সম্মুখযোদ্ধা। অথচ পরিপত্র জারি করে উল্টো তাদেরই বিপদে ফেলা হলো।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী-একজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী টানা ৭ দিন দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ১৪ দিন সরকার নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। এ সময়ে করোনা পজিটিভ না হলে পরে তিনি আবারও কাজে ফিরবেন। এভাবেই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু নতুন পরিপত্রে তা বদলে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময় একজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আবাসন, খাওয়া ও যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। কিন্তু টানা ১৫ দিন দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী কোয়ারেন্টিনের জন্য বাসাবাড়িতে অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত।

হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকারী ওই চিকিৎসক, নার্স কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী যদি করোনা পজিটিভ হয়ে থাকেন এবং তিনি পরিবারের সদস্যদের সংস্পর্শে গেলে তারাও ঝুঁকিতে পড়বেন। এখন প্রশ্ন হলো, কারও সন্তান চিকিৎসক হওয়ার কারণে তার মা-বাবাকেও ঝুঁকিতে পড়তে হবে? তার স্ত্রী ও সন্তানকেও ঝুঁকি নিতে হবে? রাষ্ট্র তো এ অমানবিক আচরণ করতে পারে না।

স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নতুন পরিপত্রটি অবৈজ্ঞানিক ও অমানবিক। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হবে। চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে তাদের পরিবারের সদস্যরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বেন। সুতরাং পরিপত্রটি অতি জরুরি ভিত্তিতে বাতিল করতে হবে।

এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, পরিপত্রটির বিষয়ে কোন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা কিংবা পরামর্শ করা হয়নি। সেটি হলে এ ধরনের পরিপত্র জারি হতো না। আমরা মনে করি, যারা এ ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে তারা মোটেও সরকারের শুভাকাক্সক্ষী নন। কাদের পরামর্শে এ ধরনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়া হলো সেটা অবশ্যই খুঁজে দেখতে হবে। তাদের বিষয়ে সরকারকে সতর্ক হতে হবে।

মতপ্রকাশের বাধাগুলো দূর করুন

তথ্য অধিকার আইন হওয়ার এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের খুব কম মানুষই জানে এ সম্পর্কে।

ছাত্রলীগের অন্যায়-অপরাধের শেষ কোথায়

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের ছাত্রাবাসে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামীকে বেঁধে রেখে এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

করোনাকালে বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এ সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।

স্বাধীন কমিশনগুলোর স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে

একাধিক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তাদের দফতর বা সংস্থার অধীনে সংশ্লিষ্ট কমিশনকেও যুক্ত করা হয়েছে।

অসৎ পুলিশ সদস্যদের ফৌজদারি আইনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিন

মাদক ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনায় পড়া কক্সবাজার জেলা পুলিশ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

কোন অজুহাতেই উপবৃত্তির টাকা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করা যাবে না

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেয়া উপবৃত্তির টাকা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড।

সাইবার অপরাধ রোধকল্পে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ান

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ইন্টারনেটের কারণে যেমন যোগাযোগ বেড়েছে, তেমনি নানা ধরনের সুবিধা পাচ্ছে মানুষ। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে সাইবার অপরাধও।

ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন ফিরিয়ে আনুন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংকগুলো যে জনগণের আমানতে

অনলাইন ক্লাস নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ করুন

অনলাইন শিক্ষা নিয়ে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। এ নিয়ে