করোনার মধ্যেও খুলছে প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সুরক্ষার নিশ্চয়তা?

image

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগী প্রথম শনাক্ত হয় এ বছরের ৮ মার্চ। এরপর ৫৭ দিনে বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে; এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা প্রায় দুইশত।

প্রতিদিনই কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ভালোর দিকে বা নিরাময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এমনটি ভাববার মতো সময় এখনো আসেনি। তাই এখনই বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান বা অফিস-আদালত কিংবা মার্কেটগুলো যে খুলতে শুরু করেছে, তা কতোটা যৌক্তিক হলো বা কতোটা সুরক্ষা নিশ্চিত করে তা করা হলো, সেটি ভাবা দরকার।

প্রায় দুসপ্তাহ আগে থেকে গার্মেন্টসহ বেসরকারি খাতের আরো কিছু প্রতিষ্ঠান খুলতে শুরু করে। সরকার নির্দেশ দেয়, সীমিত পরিসরে ও পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে এসব প্রতিষ্ঠান খোলা যাবে এবং দূরের শ্রমিকদের ডেকে না এনে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করাতে হবে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরেই দেখা গেছে, সে নির্দেশ ঠিকভাবে মানা হয়নি। এর পরিণতিও দৃশ্যমান হয়েছে: সম্প্রতি গাজিপুর ও সাভারের কয়েকজন গার্মেন্টকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

সর্বশেষ খবর হলো, ৫ মে (মঙ্গলবার) থেকে রাজধানীর নিউমার্কেট খোলা থাকছে এবং ১০ মে থেকে বিভাগীয় শহরগুলোতে শপিং মলগুলো খোলা থাকবে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তির আর্থিক নিরাপত্তা ও মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের কথা উপেক্ষা করা যায় না এ কথা ঠিক। তাই কিছু কিছু করে প্রতিষ্ঠান খোলা যে দরকার, সে কথা পুরোপুরি অস্বীকার করা যায় না।

তবে শুরু থেকেই দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি উভয়ের মধ্যেই যথাযথ সুরক্ষা বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে কিছু হলেও অনিয়ম-অনীহা রয়েছে। এজন্যে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, এর প্রমাণও বার বারই পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কেট বা শপিং মলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সার্বিক দিক বিবেচনা করা হয়েছে এমনটিই ভাবতে চাই।

তবে পুরোনো অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় হলো, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কেউই খুব বেশি আগ্রহী বা যতœশীল নয়। রাস্তা-ঘাটে এখনো মানুষের বেপরোয়া ও সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া চলা-ফেরাই এর প্রমাণ। আবার আগে থেকে খোলা থাকা ও পরে বিভিন্ন সময়ে খুলে দেওয়া দোকান-পাট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের বাইরেও খোলা রাখা হচ্ছে-এমন অনিয়মের খবরও প্রতিদিনই গণমাধ্যমে উঠে আসছে। তাই এসব প্রতিষ্ঠান-অফিস-মার্কেট খুলে দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টিকে নিশ্চিত করার জন্যেও সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, এ ব্যাপারেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকা দরকার।

মনে রাখতে হবে, জীবনের নিরাপত্তা মানে কেবল স্বাস্থ্যসুরক্ষা কিংবা কেবল খাওয়া-পরার নিশ্চয়তা নয়; মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা ও আর্থিক নিরাপত্তা; দুটোই একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। একটিকে নিশ্চিত করতে গিয়ে অন্যটিকে উপেক্ষা করলে যাদের জন্যে এই আয়োজন, সেই মানুষই আর বেঁচে থাকবে না!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারপারসন, জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি।

ইমেইল: sajeeb_an@yahoo.com

জিয়া-মঞ্জুর হত্যা এবং এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখল

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, ‘বেটার লেট দ্যান নেভার’ অর্থাৎ একেবারে না হওয়ার চেয়ে বিলম্বে হওয়াটা ভালো। বিলম্বে হলেও বিচার

চিনি শিল্পে সংকট ও উত্তরণ

সময় মতো আখ বিক্রির টাকা না পেয়ে ক্ষোভে-দুঃখে জমি থেকে আখ উপড়ে ফেলেছেন জয়পুরহাট চিনি কলের কৃষক। আখের বদলে আবাদ

চুকনগর গণহত্যা দিবস : গণহত্যার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে চুকনগরের মাটি

image

জাহানারা ইমাম নিরলস যুদ্ধ করেছেন যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে

image

জঙ্গিদের পরবর্তী লক্ষ্য কোন দেশ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

এক বাগানের ফুল

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত জাপান নতুন যুগে পদার্পণ করতে চলেছে। আড়ম্বরের সঙ্গে আয়োজন করা হচ্ছে- জাপানের ভাবী সম্রাট নারুহিতো

প্রাচীন বাংলার ইতিহাস জাতিরাষ্ট্রের মাপকাঠিতে আটকে রাখা যায় না

image

বোরো ধানের ব্লাস্ট রোগ : কারণ ও প্রতিকার

ব্লাস্ট ধানের একটি ছত্রাকজনিত মারাত্মক ক্ষতিকারক রোগ। পাইরিকুলারিয়া ওরাইজি (Pyriculria Orayzai) নামক

শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই গড়ে তুলব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা

বাঙালির অবিসংবাদিক নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে।