ঈদুল আজহা

পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে

এসএম খায়রুল বাসার

ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পশু কোরবানি। সারা দেশে লাখ লাখ পশু কোরবানি দেয়া হয় এই ঈদে। কিন্তু সচেতনতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে প্রতি বছরই দেশের সর্বত্র কোরবানিকৃত পশুর রক্ত ও উচ্ছিষ্টাংশে পরিবেশ মারাত্মক দূষিত হয়। পশুর বর্জ্য থেকে রোগবালাই ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে। এ জন্য কোরবানির আগে-পরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে আমাদের অবশ্যই নজর দিতে হবে। যেহেতু করোনাকাল, সেহেতু কোরবানির সময় পরিবেশের পাশাপাশি করোনা স্বাস্থ্যবিধির প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞান এবং সব ধর্মেই পরিচ্ছন্নতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে ইসলামের শিক্ষা অতুলনীয়। ইসলামে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নানাবিধ বিষয় শেখানো হয়েছে। কোরআন ও সুন্নায় পরিচ্ছন্নতার চেয়ে আরও ব্যাপক শব্দ ‘তাহারাহ’ তথা পবিত্রতা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছ। এই ‘তাহারাহ’ শব্দ যেমন অভ্যন্তরীণ অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে, তেমনি তা সব রকমের বাহ্যিক অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদের পছন্দ করেন।” (বাকারা-২২২) “অবশ্যই সাফল্য লাভ করবে সে, যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়।” (আল আলা-১৪) মহানবী (সা.) বলেছেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।” (মুসলিম) রাস্তা থেকে তুমি যে কষ্টদায়ক বস্ত সরিয়ে ফেল, তাও সাদকা। (বুখারি ও মুসলিম)

কোরবানির সময় তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য আমাদের নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। গ্রাম্য এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করার আগে-ভাগে বসতবাড়ি থেকে দূরে খোলামেলা কোন মাঠে কিংবা পরিত্যক্ত জায়গায় স্থান নির্বাচন করে রাখার পাশাপাশি নির্ধারিত স্থানে একটা গর্ত তৈরি করে রাখতে হবে। কোরবানির পশুর যাবতীয় বর্জ্য সেই গর্তে পুঁতে ফেলতে হবে। শহর এলাকা হলে কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত স্থান বা সহজে বর্জ্যরে গাড়ি পৌঁছাতে পারে রাস্তার কাছাকাছি এমন জায়গা বেছে নিতে হবে। গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব না হলে অথবা দেরি হলে, বর্জ্য পলিথিনের ব্যাগে ভরে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। বিচ্ছিন্ন স্থানে কোরবানির পশু জবাই না করে কয়েকজন মিলে এক স্থানে কোরবানি করা ভালো। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে সুবিধা হয়।

ইসলামে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় নানাবিধ বিষয় শেখানো হয়েছে। কোরআন ও সুন্নায় পরিচ্ছন্নতার চেয়ে আরও ব্যাপক শব্দ ‘তাহারাহ’ তথা পবিত্রতা শব্দ ব্যবহার করা হয়েছ। এই ‘তাহারাহ’ শব্দ যেমন অভ্যন্তরীণ অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে, তেমনি তা সব রকমের বাহ্যিক অপরিচ্ছন্নতা থেকে মুক্ত হওয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে

পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে না তুলতে পারে সেদিক লক্ষ্য রেখে কোরবানির পশুর রক্ত, হাড়, নাড়ি-ভুঁড়ি, মল ইত্যাদি যথাযথভাবে পরিষ্কার করা দরকার। মাংস কাটা এবং ভুঁড়ি পরিষ্কারের পর উচ্ছিষ্টগুলো যেখানে-সেখানে খোলা জায়গায় না ফেলে এক জায়গায় রেখে কাজ শেষে সেগুলো গর্তে পুঁতে ফেলাই উত্তম। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পশুর চামড়া বিক্রি কিংবা দান করে দেয়া ভালো।

কোরবানির সব কার্যক্রমের শেষে রক্তে মাখা রাস্তাঘাট ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন। জীবাণু যেন ছড়াতে না পারে সে জন্য নোংরা জায়গা পরিষ্কারের সময় জীবাণুনাশক মেশানো পানি ব্যবহার করুন। কোনভাবেই কোরবানি পশুর কোন বর্জ্যই নর্দমা, নালা, ড্রেন এসব জায়গায় ফেলা যাবে না।

পরিবেশ দূষণের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দিতে হবে। সর্বপ্রথম সরকারকে গ্রাম-শহর এলাকা ভেদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আলাদা নীতিমালা তৈরি করে মিডিয়া, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, শিক্ষক, ঈমাম, সমাজসেবক, এনজিও কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশিক্ষিত বর্জ্য প্রযুক্তিবিদ, কর্মী ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে একটি আধুনিক শক্তিশালী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বর্জ্যকে ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে পারলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ভালো থাকবে। অন্যদিকে জবাই পরবর্তী পশুর উচ্ছিষ্টাংশ সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। যেমন নির্ধারিত স্থানে কোরবানির ব্যবস্থা করলে চামড়া ছাড়ানোর অভিজ্ঞ লোকের সমাবেশ করা অনেক সহজ হবে এবং সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো হলে এর মূল্য বেড়ে যাবে। নির্ধারিত পরিচ্ছন্ন জায়গায় কোরবানি দিলে মাংসে আবর্জনা ও জীবাণু মিশ্রণের সম্ভাবনা কম থাকে এবং মানসম্পন্ন মাংস পাওয়া যাবে। এ ধরনের পরিকল্পিত ব্যবস্থা তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। সব এলাকায় তাদের অস্থায়ী নির্ধারিত জায়গা তৈরি করতে হবে, যেন কোরবানির পশু জবাইয়ের পরে উচ্ছিষ্ট রক্ত, হাড়, চামড়া, গোবর, নাড়িভুঁড়ি আলাদা আলাদাভাবে সংগ্রহ ও তা যথাযথ সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।

সরকার একটি সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার আগ পর্যন্ত পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। নিজের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করে কিছুটা হলেও সামাজিক দায় মেটাতে হবে। সবমিলে সচেতনতা এবং ধর্মীয় অনুশাসনই পারে কোরবানির পর আমাদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখতে।

[লেখক : কলামিস্ট]

kbasher74@gmail.com

জরিপে বাইডেন এগিয়ে, হয়তো জিতবেন ট্রাম্প?

image

চলতে ফিরতে দেখি, দেখে না প্রশাসন

মহাসড়কের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বসেছিলেন ফজলুল হক। বয়সের তুলনায় দেহটি ভারি। দেখলে যে কারও মনে হবে তিনি নানা

আদর্শবাদী নেতার প্রতিরূপ আমিনুল ইসলাম বাদশা

image

রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধার দাফন

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধরা আজ বর্তমান আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পদে পদে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান’

স্বাস্থ্যে রদবদল : মন্ত্রী-মন্ত্রণালয় ধোয়া তুলসী পাতা?

গোটা স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা, চিকিৎসা-ব্যবস্থা, হাসপাতাল-ব্যবস্থাপনা, বিনা চিকিৎসায়, আধা

করোনা আক্রান্ত শেয়ারবাজার

বিশ্ব এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে অভূতপূর্ব পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করে ৩০ দশকের

কীভাবে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর

২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯ গাজীপুরের ছায়াবিথীতে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী কর্র্তৃক উদ্বোধন করা আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুলের দুই দশক পূর্ণ

সরকার কি করোনা মোকাবিলায় হাল ছেড়ে দিয়েছে

দেশে কয়েকদিন ধরে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা ক্রমাগতই কমছে। ২ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ১৯ জন রোগী শনাক্তের

একদিনের সংবাদপত্রের শিরোনাম : মানুষের কথা

দিনটি ছিল ১৯ জুলাই। সকালে ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে চায়ের