রিপোর্টারের সাতকাহন

সাদা মনের মানুষ আলী জাহাঙ্গীর

সবকালে সব সমাজে কিছু ভালো মানুষ থাকেন যারা নামে দামে খুব বিখ্যাত কেউ নন কিন্তু গুনে মানে নীরবে নিভৃতে সমাজের আলোক শিখা হয়ে দীপ্যমান থাকেন। আমরা ভাষার সৌকর্য আর সুনামে সিক্ত করে তাদের বলি ‘সাদা মনের মানুষ’। তাদের অনেকেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন, এখনো আছেন, শহর-নগর থেকে দূরে, গ্রামে-গঞ্জে, নিভৃত জনপদে। তেমনি একজন সাদা মনের মানুষ যশোরের সার্শা উপজেলার নাভারণ বাজারের আলী জাহাঙ্গীর।

প্রথাগত বিখ্যাত কেউ নন তিনি, কিন্তু মুক্ত চিন্তা-চেতনায় লালিত, নাগরিক জীবনের বাইরে, নগর থেকে দূরে গ্রামীন পরিবেশে জীবন অতিবাহিত করা একজন বুদ্ধিজীবি। জীবনাচরণে মননশীল, সহজ-সরল মানসিকতায় উজ্জীবিত আলী জাহাঙ্গীরকে নীরবে-নিভৃতে যাপিত জীবনের ‘সত্যিকার ভালো মানুষ’ হিসেবেই জেনে এসেছি দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে। সম্প্রতি জীবনের পাট চুকিয়ে চলে গেলেন তিনি। একজন হৃদয়বান মানুষের জন্য শোক গাথাঁ লিখতেই এ নিবন্ধের অবতারণা।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক গ্রামে জন্ম নেয়ার সময়ে সেই জনপদ ছিল সত্যিকার অর্থেই অজ পাড়া গাঁ, আমরা কথ্য ভাষায় যাকে বলি ‘গাঁও গেরাম’, এখন উন্নয়নের জোয়ারে সেখানে শহরের ছোয়া লেগেছে। সেই ‘গাঁও-গেরাম’ শার্শার ডা. আজিজুর রহমানের ছেলে আলী জাহাঙ্গীর।

ডা. আজিজুর রহমান ছিলেন পাকিস্তান সৃষ্টির আগে অবিভক্ত ভারতের শার্শা-নাভারণ-বনগাঁ এলাকায় জনদরদী এক চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুমুল পরিচিতি এক ব্যক্তিত্ব। ডাক্তারী করে আয়-রোজগারের চেয়ে গ্রামীন জনপদের সাধারণ মানুষের সেবা করাই ছিল আজীবনের সাধনা। মানব সেবার সেই কর্মকান্ড নিয়েই তিনি সে এলাকার সব শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে পরোপকারী এবং নি:স্বার্থ সেবা দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টিকারী মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যা এখনো সে এলাকার তার বয়সী মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। বয়স্ক মানুষের হৃদয়পটে ডা. আজিজুর রহমান একটি শ্রদ্ধাসিক্ত নাম।

বৃটিশ শাসিত অখন্ড ভারতে অসাম্প্রদায়িক আদর্শের কংগ্রেস রাজনীতির সক্রীয় সমর্থক হিসেবে ডা. আজিজুর রহমান দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান সৃষ্টির ঘোর বিরোধী ছিলেন যেমন, তেমনি পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িক এবং বাংলাদেশকে শোষনের রাজনীতির বিরুদ্ধে দাড়িয়েছিলেন সক্রীয়ভাবে। বাঙালি ও বাংলাদেশ প্রেমের দায় ডা. আজিজুর রহমানকে পরিশোধ করতে হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে জীবন দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে বর্বর পাকিস্তানী সেনারা তাকে নিজ এলাকা শার্শা থেকে ধরে নিয়ে যায়। তারপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বন্দিত্ব থেকে তিনি আর ফিরে আসেননি। তার নিস্প্রান দেহও খুজে পায়নি তার স্বজনরা।

মুক্তিযুদ্ধকালে পিতাকে হারিয়ে আলী জাহাঙ্গীর ভ্রাতারা কিছুটা দিশেহারা হয়ে পড়লেও দেশের টানে সব ভুলে বাবার দেশ স্বাধীন করার আদর্শকেই আকড়ে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করতে থাকেন। আগেই বলেছি, পিতার মুক্তবুদ্ধি আর স্বাধীনচেতা মনোভাবের প্রতিফলন সক্রীয়ভাবে ছায়া ফেলেছিল আলী জাহাঙ্গীরের জীবনাচরণে। যার ফলশ্রুতি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আলী জাহাঙ্গীর নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন প্রবলভাবে। নিজ এলাকায় থেকে অনেক কাজ করেছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। তার ছোটভাই আলমগীর কবির যুদ্ধে প্রশিক্ষন নিতে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বিভিন্নস্থানে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন।

অন্যদিকে আলী জাহাঙ্গীর নিজ এলাকায় একদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মানুষকে অনুপ্রানিত করা, অন্যদিকে স্থানীয় যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে যেতে উদ্বুদ্ধ করে প্রশিক্ষন নিতে ভারতে পাঠানোর কাজ অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করেন। ভারতের মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন নির্দেশ আসতো আলী জাহাঙ্গীরের কাছে , তিনি সেসব নির্দেশ স্থানীয়ভাবে বিভিন্নজনকে জানিয়ে দিতেন। পাকিস্তানে সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে ‘এই জানোয়ারকে হত্যা করতে হবে’ শীর্ষক একটি পোষ্টার তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিল্পী কামরুল হাসান। সেই পোষ্টারটি মুক্তিযুদ্ধকালে বিভিন্নস্থানে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছিল প্রবাসী সরকারের পক্ষ থেকে। শার্শায়ও সেই পোষ্টার পাঠানো হয়েছিল আলী জাহাঙ্গীরের কাছে। তিনি তার পরিচিত এবং বিশ্বস্ত কয়েকজনকে নিয়ে রাতের অন্ধকারে বিভিন্নস্থানে সে পোস্টার সেটে দেন। কিন্তু কিভাবে যেন সেখবর পাকিস্তান আর্মির কাছে চলে যায়। একদিন পাকিস্তান আর্মি এসে তাকে আরো একজনের সঙ্গে ধরে নিয়ে যায়। যশোর সেনানিবাসে নিয়ে তার উপর অকথ্য অত্যাচার করা হয়। কিন্তু সে পোষ্টারের ব্যাপারে কোন তথ্য পাকিস্তান বাহিনীর কাছে প্রকাশ করেননি আলী জাহাঙ্গীর। পরে পাকিস্তান বাহিনী তাকে ছেড়ে দেয়, পিতার মতো পাকিস্তান বাহিনীর হাতে তাকে জীবন দিতে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধে এত কিছু করার পরও স্বাধীন দেশে নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জাহির করতে পারেননি। ফলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার চিন্তাই করেননি তিনি।

আদর্শবান পিতার সন্তান আলী জাহাঙ্গীর পিতার আদর্শকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন নিজ জীবনের সঙ্গে। আরো দুই কনিষ্ঠ ভাইকে নিয়ে আলী জাহাঙ্গীর বেড়ে ওঠেন গাও গেরামের অবারিত আলো-বাতাসে।

সেই গাও-গেরামের আলো-বাতাস তাকে কিভাবে যেন জ্ঞান,মেধা আর সারল্যে ভরা নিষ্ঠাবান আদর্শবাদী ভিন্ন রকমের মানুষ হিসেবে জাগিয়ে তোলে। এই জাগিয়ে তোলার প্রক্রিয়াই আলী জাহাঙ্গীরকে জীবনের পুরো সময় ‘সাদা মনের মানুষ’হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যায়। পড়াশোনা শেষ করে আলী জাহাঙ্গীর সরকারী এক পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী গ্রহন করেন। সেখানে অবৈধ পথে অর্থ আয়ের প্রলোভন সততার আলোয় ঢেকে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। এরপর চাকুরী বদলে হলেন সাব রেজিস্টার। সে চাকুরীও অবৈধ পথে অর্থ আয়ের আরেক অবারিত উৎস। সাধারণ নীরিহ মানুষকে নানা প্যাঁচে ফেলে অর্থ খসানোর যন্ত্রনা তাকে মানসিকভাবে দগ্ধ করতো প্রতিনিয়ত। সে চাকুরীও এক সময় ছেড়ে দিয়ে সৎ পথে উপার্জনের আশায় ব্যবসা শুরু করেন। সেখানেও মানুষকে না ঠকিয়ে ভালোভাবে জীবনের দীর্ঘ সময় পার করে দিয়েছেন।

আলী জাহাঙ্গীর জীবনের প্রথম পেশাজীবি হওয়ার সময় চিনেছেন চারপাশের অবাধ দূর্নীতি আর অসত্যের বেড়াজাল কিভাবে ছিড়ে বেরিয়ে সত্য আর নিষ্ঠাবান জীবনের পথ রচনা করা যায়। সে পথই তাকে আলো দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এক সময় চাকুরী ও ব্যবসার পাট চুকিয়ে ঢুকে পড়েন অবসর জীবনের। একমাত্র কন্যাকে ‘আদর্শ পিতার আদর্শ সন্তান’ হিসেবে গড়ে তুলে জীবনে সাফল্যের নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। সততার এসব অসাধারন অধ্যায় পেরিয়ে আলী জাহাঙ্গীর এক সময় নিজ পরিবার ও স্বজনদের কাছে যেমন তেমনি পরিচিতজন ও এলাকাবাসীর কাছে, অনেকটা নিরবে নিভৃতে হয়ে উঠেন সবার শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পাত্রÑ সাদা মনের মানুষ।

আলী জাহাঙ্গীর ষাটের দশক থেকে দৈনিক সংবাদ পড়তেন। সম্ভবত তার বাবার কাছ থেকে তখনকার প্রগতিশীল বাম আদর্শের এবং মেহনতি মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলা দৈনিক সংবাদ পাঠে তিনি অভ্যস্ত হয়েছিল। তার ছোটভাই আলমগীর কবিরও ছোটবেলা থেকে দৈনিক সংবাদ পাঠে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। তিনি প্রায় ২০ বছরের দৈনিক সংবাদের সাহিত্য সাময়িকী সংগ্রহ করে রেখেছেন। তার বাসায় নিয়ে সে মূলবান সংগ্রহ তিনি আমাকে দেখিয়েছেনও।

আলী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে যখনই আমার কথা হতো, সে কথাবার্তার বেশীর ভাগ জুড়ে থাকতো দেশের কথা, দেশ কেমন চলছে, কেন এটা হচ্ছে, কেন ওটা হচ্ছেনা, কেন সরকার এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেনা, কেন বিরোধী দল সরকারবিরোধী গঠনমুলক আন্দোলন না করে হঠকারী লাইনে গিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে- এসব নিয়ে। এরপরই আলী জাহাঙ্গীর শুরু করতেন সংবাদ নিয়ে নানা কথা। সংবাদের ‘সেই নিউজটা’ অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী হয়েছে, কিন্তু ওই নিউজটি প্রগতিশীল চিন্তাধারার মানুষের বিরুদ্ধে মনে হচ্ছে। শুধু তার সঙ্গে কথা বলার সময়ই তিনি দৈনিক সংবাদ নিয়ে তার ভালোলাগা, ভালো না লাগা নিয়ে কথা বলতেন, তা নয়। কোন কোন দিন সকাল বেলা কোন খবর পাঠ করেই সেই যশোর থেকে আমাকে ফোন দিতেন। বলতেন সে খবর সম্পর্কে তার পছন্দ-অপছন্দের কথা। এর মধ্যদিয়ে আমি উপলব্দি করতে পারতাম সংবাদপত্র এবং দৈনিক সংবাদ নিয়ে তার চিন্তাচেতনার বিষয়টি। এছাড়াও তিনি দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত বিভিন্ন কলাম অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে পড়তেন। শুধু পড়েই থেমে থাকতেন না তা নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতেন। তার বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনার পাশাপাশি আমার মতামতও জানতে চাইতেন।

দৈনিক সংবাদ পাঠ করতে করতে তিনি যে জ্ঞানগর্ভ মতামত দিতেন তাতে এক সময় আমার মনে হলো; তাকে দিয়েইতো সংবাদপত্রে কলাম লেখানো যায়। যদিও এ ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। যাহোক আমি তাকে সংবাদপত্রে লেখায় উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করি। ঠিকই তিনি দেশের চলমান আর্থসামাজিক-রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে লিখতে শুরু করেন। তার কয়েকটি লেখা দৈনিক সংবাদে ছাপাও হয়েছিল।

আলী জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আমার শেষ দেখা-কথা হয় গত বছর নভেম্বর মাসে। সেসময় আমি মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুর বেড়াতে গিয়েছিলাম। ¯্রফে ঘোরাঘুরির জন্য আমাদের এলাকার জনপ্রতিনিধি (ওয়ার্ড কাউন্সিল) রুহুল আমিন মোল্লা আমাকে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া নিয়ে গিয়েছিলেন। আলী জাহাঙ্গীর তখন কুয়ালালামপুরে তার একমাত্র কন্যা অনন্যা জাহাঙ্গির সেতু’র বাসায় ছিলেন। জাহাঙ্গীর ভাই অবসর জীবন কাটানোর জন্য প্রায়ই কুয়ালালাম পুরে কন্যার বাসায় গিয়ে দীর্ঘ সময় কাটাতেন। সেতু যেমন বাবাকে সব ধরনের ঝড়ঝঞ্জা থেকে আড়াল করে রাখতে চাইতো, জাহাঙ্গির ভাইও তার কন্যার জন্য জীবনপাত করতে দ্বিধা করতেননা। বিশেষ করে তার দুই দৌহিত্র সারাক্ষন তার মনপ্রান জুড়ে থাকতো। সেতুর স্বামী মো, সাইদুর রহমান ফরাজী বাংলাদেশের সিটি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি কোম্পানী সিবিএল মানি ট্রান্সফার, মালয়েশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ৭ বছর ধরে কাজ করছেন। তাদের পুত্র পার্থিব ফারাজী ও প্রত্যয় ফরাজী। এই দুই নাতিন ছিলেন আলী জাহাঙ্গীরের অত্যন্ত আদরের। এই দুই নাতির সঙ্গে সময় কাটাতে যখন তখন কুয়ালালামপুরে চলে যেতেন।

আমি কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার আগেই বেঙ্গালুর প্রবাসী বন্ধু শিবলুর কাছ থেকে কুয়ালালামপুরে সেতুর ফ্লাটের ঠিকানা এবং জাহাঙ্গীর ভাইয়ের মালয়েশিয়ার ফোন নম্বর নিয়ে গিয়েছিলাম। কুয়ালালামপুর বিমান বন্দরে আমাদের রিসিভ করতে এসেছিলেন আমাদের এলাকার এক ছেলে রবিন। সে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন যাপন করছে। দুই কন্যা ও এক ছেলে নিয়ে রবিন দম্পত্তির বেশ গোছানো সংসার। বিমান বন্দরে তার ফোন থেকে জাহাঙ্গীর ভাইকে ফোন করলাম। আমি মালয়েশিয়ায় এসেছি শুনে অত্যন্ত খুশি হয়ে বললেন, তুমি বিমান বন্দর থেকে বেরিয়ে একটি উবার ট্যাক্সিতে উঠে ড্রাইভারকে আমার সঙ্গে কথা বলিয়ে দাও, তোমাকে নিয়ে আমাদের বাসায় কিভাবে আসবে তা ট্যাক্সি চালককে বলে দেই। তিনি স্পষ্ট বললেন, মালয়েশিয়ায় যে কয়দিন থাকবে তুমি আমার সঙ্গে এখানে থাকবে। কিন্তু আমি মালয়েশিয়ায় বিভিন্নস্থান ঘুরে বেড়াবো বলে তার বাসায় যাওয়ার ব্যাপারে রাজী হইনি। কিন্তু পরদিন আমাকে তার বাসায় যেতে হয়েছিল বিশেষ অনুরোধে। সেদিন কুয়ালালামপুরে তার কন্যার বাসায় তার সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডায় কেটে যা। সে আড্ডাও তার কথা ছিল দেশ নিয়ে, দেশের চলমান আর্থ-সামাজিক কোনদিকে যাচ্ছে তা নিয়ে। সংবাদ নিয়ে তিনি অনেক কিছু বললেন। তার আক্ষেপ ছিল- মালয়েশিয়া যে সম্পদ ও নাগরিক যোগ্যতা নিয়ে এশিয়ায় একটি সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সবকিছুই বাংলাদেশে প্রকৃতিতে আছে, মানুষে মেধা-যোগত্যাও মালয়েশিয়ার মানুষের চেয়ে কম নয়। বাংলাদেশে অসংখ্য মানুষ এসে মালয়েশিয়াকে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য কাজ করছে। অথচ সেই কাজগুলো আমরা নিজ দেশের জন্য করতে পারছিনা।

সাদা মনের মানুষ আলী জাহাঙ্গীর আমাদের ছেড়ে চলে যান গত জুন মাসে, সারাদেশ যখন করোনা মহামারিতে কাবু হয়ে আছে। তিনি লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। যশোর থেকে তাকে হেলিকপ্টারের ঢাকায় এনে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরে ঘুরেও স্বজনরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি। কারো দোষ নয়, তবুও বলা যায়, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবহেলায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছিল তাকে। আলী জাহাঙ্গীরের মতো একজন সাদা মনের মানুষকে এই ঢাকায় অনেকটা বিনা চিকিৎসায় এম্বুলেন্সে শুয়েই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়েছে। এ দু:খ কোথায় রাখি।

আইনের গ্যাঁড়াকলে তিন দশক শ্রমিকের পাওনাদি

এ আর হাওলাদার জুট মিল মাদারীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। এই মিলে প্রায় ১৪০০ শ্রমিক কাজ করতেন। এই মিলকে ঘিরে মাদারীপুর শহর তখন জমজমাট ছিল।

মার্কিন নির্বাচন : গণতন্ত্রেরই জয় হবে

image

আবুল হাসনাত : একজন নিভৃতচারীর গল্প

image

গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের আদর্শ অটুট থাক

image

কোথায় আকবরের ক্ষমতা

image

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন

image

বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার কীভাবে মানবকল্যাণে অবদান রাখবে

image

মুরাদনগরই আসল বাংলাদেশ?

জন্মেছি ১৯৩৩ সালে। দেখেছি ইংরেজ শাসিত ভারত। অতঃপর ২৩ বছর ধরে দেখলাম অনাকাক্সিক্ষত দেশ পাকিস্তানকে।

আনিসুল করিমের মৃত্যু : মানসিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় করুণ দশার প্রতিফলন

image