রাজনীতির পথে প্রান্তে

হতাশায় নিমজ্জিত সরকারবিরোধী দল এ অবস্থা চিরস্থায়ী হতে পারে না

ফকীর আবদুর রাজ্জাক

রাজনীতির সঙ্গেই ‘উত্থান-পতন’ শব্দটা জড়িত। একটার থেকে অন্যটা আলাদা করা যায় না। রাজনীতিকদের জীবনেও তাই। শুধু উত্থান নয়, পতনও হয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে কখনও রমরমা অবস্থা থাকে, আবার কখনও তা ঝিমিয়ে পড়ে। এ সবই রাজনীতির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বিষয়। এটা শুধু আমাদের দেশ বা উপমহাদেশেই নয়, গোটা পৃথিবীতেই এই উত্থান-পতন রয়েছে। তাই রাজনীতি থমকে গেছে আর সেটা কোন স্থায়ী ব্যাপার তা নয়। এটাই নিয়ম, এটাই রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। এতে হতাশ হবার বা মুষড়ে পড়ার প্রয়োজন নেই। সব কিছু মিলিয়েই রাজনীতির গতি শুধু সামনের দিকে। পেছনের দিকে নয়। কয়েক দিন আগে একটি দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম ‘থমকে গেছে রাজনীতি’। বোঝাই গেলটেবিলে বসে বানানো খবর। মনের মাধুরি মিশিয়ে সংবাদকর্মী এ খবরটি বানিয়েছেন। আর খবরটার সমর্থনে তিনজন ‘পন্ডিত’ ব্যক্তি কিছু মতামত সচিত্র ছাপিয়েছে। পুরো খবরটা পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবেনÑ বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক কর্মকান্ড দৃশ্যমান নেই, জামায়াতের ওপর কিছু অঘোষিত বিধিনিষেধও রয়েছে; তাতে তাদের রাজনীতি থমকে গেছে। রাজনীতির অর্থ যে বিএনপি-জামায়াত বা একক কোন দলের ব্যাপার নয়, এই সত্যিটাই তারা বুঝতে পারেনি। বিএনপি গত নির্বাচনে অংশ নিয়েও অংশ না নেয়ায় তাদের সারা দেশের কর্মীরা চরমভাবে আজ হতাশায় ভুগছেন। তার জন্য দায়ী কে? সরকারবিরোধী দল হলে তাদের ওপর প্রতিবন্ধকতা থাকবেই, পৃথিবীর সব দেশেই তা থাকে। সেসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করেই রাজনীতি করতে হবে। আমাদের দেশেও সব সময় তা ছিল। তাই বলে কেউ হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। জামায়াত যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল। তাদের ব্যাপারেও প্রতিবন্ধকতা ছিল। এবার তারা বিএনপির প্রতীক নিয়ে ২০টি আসনে নির্বাচন করে একটিতেও জয়ী হতে পারেনি। স্বাভাবিকভাবেই হতাশায় ভুগছে। বিএনপি নির্বাচনের খেলায় নেমে পায়ে কাদা লাগাতে চায়নি। তবু তারা ৭টি আসনে জিতেছে। এখন এসব হতাশায় তারা এতটাই বিদ্ধ যে, সাংগঠনিক কর্মকান্ড নেই বললেই চলে। ফখরুল সাহেব একটা চেষ্টা করছেন দলটিকে গোছাতে কিন্তু সেটা তার পক্ষেও অসাধ্য কাজ। আর জামায়াত তো হতাশায় ভুগে এখন ভাঙনের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি গৃহবিবাদে জর্জরিত। মনে হচ্ছে এরশাদ সাহেবের দল থেকে বিদায় না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পার্টির আর কোন গতি নেই। গৃহবিবাদের মধ্যেই তাদের আবর্তিত হতে হবে। এসব বড় রাজনৈতিক শক্তি নানা সঙ্গতকারণেই এখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত। এ অবস্থা অন্য কেউ চাপিয়ে দেয়নি। নিজেদের কারণেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাকি ছোট ছোট জোট তাদের মতো করে তৎপরতা চালাচ্ছে। জাতীয় রাজনীতিতে তার কোন প্রভাব নেই। স্বাভাবিকভাবেই বলা যায়, জাতীয় রাজনীতিতে এক ধরনের মন্দা চলছে। তাই মনে হচ্ছে থমকে গেছে রাজনীতি।

এই সামগ্রিক অবস্থার অর্থ রাজনীতি থমকে গেছে বলে আপাতত মনে হলেও কোন দেশেই রাজনীতি একেবারে থেমে থাকে না। কোন কোন কারণে থমকে থাকে, ঝিমিয়ে পড়ে, তাই বলে রাজনীতির গতি থেমে থাকে না। পৃথিবীর বহু দেশেই সামরিক স্বৈরশাসকরা ক্ষমতা দখল করে রাজনীতি নিষিদ্ধ করে, সংবিধান স্থগিত করে, আবার মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখে, তাই বলে ওই সব দেশে রাজনীতি থেমে থাকে না। প্রকাশ্য তৎপরতা বন্ধ থাকলেও রাজনীতি তার নিজস্ব গতিতে সচল থাকে। সেই পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশে ও সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সময়েও বাঙালির সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই বলে রাজনীতি কখনই থেমে থাকেনি। তার প্রকাশ পদ্ধতি ছিল ভিন্ন। ’৫৮ সালে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান পাকিস্তানের ক্ষমতা দখল করে রাজনীতি, সংবিধান ও মৌলিক অধিকার নিষিদ্ধ করে দেয়। কিন্তু ’৬২ সালেই বাংলার ছাত্রসমাজ সব নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জোট গঠন করে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করে। শিক্ষা আন্দোলনের কথা জাতি ভুলে যায়নি। এরপর সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ‘ডাক’ গঠন করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ও উদ্ধারের ডাক দেয় ওই জোট। নেতৃত্ব দেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এরপর বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেন তার ঐতিহাসিক ৬ দফা। তার পরের ইতিহাস সবারই জানা। জিয়া-এরশাদের সময়েও এ ধরনের অবস্থা জাতি ভোগ করেছে। তাই বলে রাজনীতি থেমে থাকেনি। নিজস্ব গতিতে ও কৌশলে রাজনীতি এগিয়ে গেছে। যার সুফল পেয়েছে জনগণ। বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম রয়েছে। সংবিধান ও মৌলিক অধিকার বলবৎ রয়েছে। রাজনীতি, সংগঠনের ওপর কোন বাধা-নিষেধ নেই। এ অবস্থাকে একেকজন একেক রকম বিশ্লেষণ করবেন। কেউ বললেন, গণতন্ত্র নেই স্বৈরতন্ত্র চলছে, একদলীয় শাসন কায়েম হয়েছে, জনগণের রাজনীতি করার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে ইত্যাদি। প্রতিদিন এসব কথা বলা হচ্ছে সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি থেকে। এটাও তারা বলতে পারছে সংবিধানসম্মত গণতান্ত্রিক অধিকার থেকেই। আর এ সবের ওপর ভিত্তি করে তাদের ঘরানার ‘বুদ্ধিজীবী’রা বলছেন- দেশে রাজনীতি থমকে গেছে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে ইত্যাদি। আবার কেউ বলছেন, যেহেতু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সেহেতু রাজনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে।

অতীতে বহু নির্বাচনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। জাতি জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার আমলের নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে যায়নি। সেই অবস্থার মধ্য থেকেই রাজনীতি বেরিয়ে এসেছে। তখন যেহেতু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নির্ভর ও সমর্থিত দল ক্ষমতার বাইরে ছিল, সেহেতু কিছুটা সময় লাগলেও রাজনীতি বন্ধ হতে পারেনি। এক সময় সে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে আবার স্বরূপে ফিরে এসেছে। আসল বাস্তবতা হলোÑ এখন বিএনপি বা অন্যান্য বিরোধী দল সাংগঠনিকভাবে এবং নীতি আদর্শের প্রশ্নে এতটাই দুর্বল যে, তারা দিশা হারিয়ে ফেলেছে। কিভাবে এগোবে, কোন পরিকল্পনা নেবেÑ সেটাই তারা বুঝতে পারছে না। যদি পারত তাহলে বাধাবিপত্তি কাটিয়ে উঠেই রাজনীতিটাকে সামনে এগিয়ে নিতে পারত। বিএনপির একটা সম্ভাবনা ছিল; কিন্তু তারা জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি শেষে সাংগঠনিকভাবে এতটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়েছে যে, তাদের পক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এর জন্য ক্ষমতাসীন সরকার যতটা দায়ী তার চাইতে অনেক বেশি দায়ী তাদের নেতৃত্ব। তারা ভুল পরিকল্পনা নিয়ে ভুল সিদ্ধান্ত এবং ভুল নেতৃত্বের ওপর ভর করে সম্ভাবনাময় এ দলটিকে আজ অস্তিত্বের প্রশ্নে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। যেখান থেকে খুব সহজে বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না। বিএনপির এ মহাদূরাবস্থা তাদের ঘরানার ‘বুদ্ধিজীবীরা’ আর সহ্য করতে পারছেন না। তাই সুযোগ পেলেই নিজেদের সৃষ্ট দোষ সরকার বা সরকারি দলের ওপর চাপিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার পথ বেছে নিয়েছেন। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বা গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবাহ বন্ধ কি বর্তমান বয়সে এই প্রথম দেখছেন? জিয়া এরশাদ বা খালেদা জিয়ার আমলে কি দেখেননি? সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবী হতে হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নির্মোহ দৃষ্টিতে রাজনৈতিক ঘটনাবলী পর্যালোচনা করে মন্তব্য করতে হয়। নইলে সবার কাছে সব কিছু ধরা পড়ে যায়। বুদ্ধিজীবীর নামে তারা যে মূলত দলবাজি করেন, সেটাই আজ প্রতিষ্ঠিত সত্য।

আমরা জানি গত নির্বাচন যতখানি ভালো হলে জাতির উপকার হতো গণতন্ত্রের শ্রীবৃদ্ধি হতো এবং জাতীয় আন্তর্জাতিকভাবে সরকারের ভাবর্মূতি আরও উজ্জ্বল হতো তেমনটা হয়নি। এর জন্য একদিকে যেমন দায়ী একশ্রণীর অতি উৎসাহী নির্বাচন কাজে সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী ও দলের একশ্রেণীর উচ্চাকাক্সক্ষী নেতাকর্মী, তেমনি বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টির মতো বড় দলগুলোর পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে অংশ না নেয়া। ফলে সুযোগসন্ধানী সরকার সমর্থক মহল একচেটিয়া সুযোগ পেয়ে গেছে। তারপরও একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং দেশ-বিদেশে তা গ্রহণযোগ্য বলেও সবাই স্বীকার করে নিয়েছে। সরকারবিরোধীদের এ অবস্থায় হা-হুতাশ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এটা পারিপার্শ্বিক ঘটনাবহুল বাস্তবতা। আমি আপনি বা কেউ না চাইলেও এটাই সত্যি। বিএনপি এ কঠিন বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারছে না। বিএনপির মতো একটা বড় দল যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার বা সরকার চালানোর যোগ্যতা ছিল তারাই আজ বাস্তব অবস্থাটা যেমন বুঝতে পারছে না, তেমনি আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের ত্রুটি বিচ্যুত্তি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এখন তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে নতুনভাবে সংগঠিত হওয়ার সময়। পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে আগামী নির্বাচনের কথা ভেবে। বর্তমানের ওপর সব শক্তি নিয়োজিত করে কেবল শক্তির অপচয় হচ্ছে। ভাবতে হবে সামনের দিকে। সে জন্যে সংগঠনকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজাতে হবে। সাহস করে একটি দূরর্দশী মহলকে হতাশায় নিমজ্জিত ডোবা থেকে বেরিয়ে এসে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন দলের প্রধান ও দ্বিতীয় প্রধানকে সংগঠনের কাঠামো থেকে সরিয়ে রাখতে হবে। কারণ দুজনই আদালত কর্তৃক অভিযুক্ত ও দন্ডিত। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাদের নির্দোষ প্রমাণ করে মুক্তি পেতে হবে। যতদিন তা না হবে ততদিন তাদের দলের বাইরে রাখতে হবে। দল ঢেলে সাজাতে হবে পুরনো অতিচেনা-বয়স্কদের বাদ দিয়ে নতুন, ত্যাগী, সৎ ভাবমূর্তি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে দল পুনগর্ঠিত করতে হবে। সন্ত্রাসী, জঙ্গি ও সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের দলের ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয়া যাবে না। তবেই বিএনপির প্রতি জনগণের আগ্রহ সৃষ্টি হবে। ইতিবাচক আগ্রহ।

নীতি আদর্শ ও লক্ষ্যের ব্যাপারেও পরিবর্তন আনতে হবে বিএনপিকে। পুরনো আদর্শ নীতি আঁকড়ে থাকলে তাদের বারবার পস্তাতে হবে। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে এক দশকের বেশি ক্ষমতায় থেকে একটি ব্যাপারে জাতির সামনে পরিষ্কার করে দিয়েছে যে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের নীতি আদর্শ সমুন্নত না করে এবং স্বাধীনতা মহান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা না জানিয়ে কোন রাজনৈতিক দলই বাংলার মাটিতে সগৌরবে টিকে থাকতে পারবে না। তাই রাজনীতি করতে চাইলে এবং জনগণের কাছে সমাদৃত হতে চাইলে স্বাধীনতা মুক্তিযুদ্ধ ও তার স্বীকৃত নেতৃত্বের পক্ষে দলের নীতি আদর্শ ঢেলে সাজাতে হবে। রাজনীতি উত্থান-পতনের খেলা। কখনও রমরমা উত্থান কখনও হতাশায় নিমজ্জিত অন্ধকার। এই দুই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুত থাকতে হয় রাজনৈতিক নেতাদের। ক্ষমতার বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা আওয়ামী লীগের অনেক বেশি। সেই তুলনায় বিএনপির অনেক কম। এবারই তারা একনাগাড়ে দশ বছরের বেশি ক্ষমতার বাইরে। এই বিএনপি জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে এরশাদ খালেদা জিয়া মিলিয়ে একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে রাখা সম্ভব হয়েছিল আওয়ামী লীগকে। বিএনপি জন্মের পর থেকে বেশির ভাগ সময় ক্ষমতায় থেকেছে। তাই আজ তারা এতটাই হতাশায় ভুগছে যে, তার দলীয় নেতাকর্মী ও তাদের ঘরানার বুদ্ধিজীবীরাও হতাশায় নিমজ্জিত। হতাশায় নিমজ্জিত হয়েই মাঝে মধ্যেই উল্টাপাল্টা মতামত প্রচার করে নিজেদের হতাশা খানিকটা হলেও ভুলে থাকতে চাইছে।

আজকে যেসব বুদ্ধিজীবী ‘নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে অভিযোগ তুলে বাহাবা নিতে চাইছেন, তারা কি একবারও ভেবে দেখেছেন- তাদের প্রতিপক্ষ বুদ্ধিজীবীরা বলতেই পারেন জিয়া এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলের সব নির্বাচনই ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বের নির্বাচনটি ছিল অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছ। ড. ইয়াজ উদ্দিন, ড. ফখরুদ্দিন সেনাসমর্থিত তত্তাবধায়ক সরকারও ছিল বিএনপির প্রতি বেশি অনুরক্ত। তবু জনতার জাগরণ ও রায়ের কাছে হেরে যায় ২০০৮ সালের নির্বাচনের সময়। নির্বাচনটা অনেকখানি স্বচ্ছ ছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রবাহ কখনই বন্ধ হয় না, স্তিমিত হয়। তাকে জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব রাজনৈতিক দলসমূহের। বিএনপি যদি যোগ্য ও যথাযথ ভূমিকা পালন করতো তাহলে অবশ্যই তার সুফল পাওয়া যেত। সরকারি মহলও সজাগ হয়ে যেতে বাধ্য হতো। কিন্তু দেশের সরকারবিরোধী রাজনৈতিক মহল তাদের সে দায়িত্ব পালন করতে বরাবর ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল সেটা যদি সঠিক কাজ করতে পারত, ড. কামালকে যদি সঠিকভাবে কাজ করতে দেয়া হতোÑ তাহলেও আমাদের বিশ্বাস, যে হতাশায় বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো ভুগছে তা অনেকখানি কেটে যেত। কিন্তু সুকৌশলে ঐক্যফ্রন্টকে নির্জীব করে দেয়া হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে। হঠকারিতা মুক্ত হয়ে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে দূরদৃষ্টি নিয়ে এগোতে হবে।

[লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট]

দৈনিক সংবাদ : শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ৬ এর পাতায় প্রকাশিত

আসন্ন বাজেট : উন্নয়ন ও পাবনা

২০১৯-২০২০ সালের বাজেট আসন্ন জুনের অধিবেশনে পাস করা হবে এবং জুলাই থেকে তা কার্যকরী হওয়ার কথা। এ কথা ভাবাই যায়, খসড়া বাজেট প্রণয়ন কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং এখন হয়তো তার ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

নাটকের নাম ‘আমি’

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাহিত্য অঙ্গনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বিকশিত শিল্প হচ্ছে নাটক। টিকিট করে নাটক দেখা শুরু হয় স্বাধীনতা

অনেক নাটকীয়তার পরে অবশেষে শপথ

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশকিছু ওলোট-পালটের ঘটনা ঘটছে। শিগগিরই আরও কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে। মারাত্মকভাবে হতাশায় নিমজ্জিত দলগুলোতেই

প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে

image

বিধ্বংসী আত্মঘাতী বোমা

ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা, তিনটি অভিজাত হোটেল ও দুটি জনবহুল স্থানে সিরিজ বোমা হামলায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে

ডিজিটাল বিপ্লবীদের দেশে

২০১৯ সালের বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে ৮ নাম্বার হলে আমাদের এক টুকরো বাংলাদেশ দেখতে রিভ সিস্টেম দেখতে যাবার পথে হঠাৎ একটি বাক্য দেখে

দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন জাতীয় বিল্ডিং কোডের যথাযথ বাস্তবায়ন

অগ্নিদুর্ঘটনা পিছু ছাড়ছে না রাজধানী ঢাকার। মাত্র ৩৭ দিনের ব্যবধানে রাজধানী ঢাকায় ঘটল আরেকটি বিভীষিকাময় আগ্নিকান্ড। গত ২০

রাজনীতিকে নোংরামির পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দক্ষ এ দুই খেলোয়াড়

রাজনীতিতে সর্বকালেই দুষ্টু গ্রহণের আবির্ভাব হয়েছে। তারা রাজনীতির মতো সুন্দর ও সম্ভাবনাময় অঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, নোংরা করেছে।

গড়ে তুলুন ডিজিটাল স্কুল

image